মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন
শপথ কেন থেমে আছে, গর্জে উঠেছে পুরান ঢাকা!
বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল নগর ভবন এলাকা। বিক্ষোভকারীরা নগর ভবনের প্রতিটি প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে কার্যত ভবনটি অবরুদ্ধ করে ফেলেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ডিএসসিসির সাধারণ কর্মচারী—কেউই নগর ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি। বিক্ষোভের প্রভাবে গুলিস্তান মাজার থেকে বঙ্গবাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
সকাল থেকেই ‘ঢাকার সাধারণ ভোটারদের আয়োজনে নগর ভবন অবরোধ, আয়োজনে: নগরবাসী’ ব্যানার হাতে পুরান ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে দলে দলে মিছিল নিয়ে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। নগর ভবনের মূল ফটক, আশপাশের সড়ক ও প্রবেশপথে ব্যাপক অবস্থান নেয়া হয়, ফলে এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে যান। অনেক কর্মকর্তা জরুরি ফাইল নিয়ে এলেও শেষ কর্মদিবসে অফিসে ঢুকতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা জানান, “ইশরাকের শপথ নিয়ে বারবার ছলচাতুরি করা হচ্ছে। আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশ সত্ত্বেও তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়া গণরায়ের অপমান।” তাদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও শপথ না পড়ানোয় তারা বাধ্য হয়ে লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করে রায় দেন। এরপর ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেটেও তাঁকে মেয়র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে এখনও পর্যন্ত শপথ গ্রহণের কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় ইশরাকের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে।
প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই পুরান ঢাকার রাজনীতিতে জনপ্রিয় মুখ। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষই ওই এলাকার বাসিন্দা, যারা ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনে ইশরাককে ভোট দিয়েছিলেন।
বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি, “গণরায়কে অগ্রাহ্য করে শপথে বাধা দিলে, তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।” তারা জানিয়েছেন, ইশরাক হোসেনকে দ্রুত শপথ পড়িয়ে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।