মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন
নিঃশব্দ সেবায় জীবন ফেরান যারা, আজ তাঁদের দিন!
অনলাইন ডেস্ক
হাসপাতালে নার্সের গুরুত্ব কতখানি, তা সবচেয়ে ভালো জানেন সেইসব রোগী যাঁরা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকেছেন। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন যতই নিখুঁত হোক, নার্সের সেবাহীন তা অপূর্ণই থেকে যায়। রোগীর পাশে দিনের পর দিন নিরলস সেবা দিয়ে যাঁরা তাকে সুস্থতার পথে ফিরিয়ে আনেন, তাঁরাই হলেন আসল জীবনযোদ্ধা। এই নিবেদিতপ্রাণ পেশাজীবীদের সম্মান জানাতেই প্রতি বছর ১২ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক নার্স দিবস।
কিন্তু কবে থেকে শুরু এই দিবসের পথচলা? কী রয়েছে এর পেছনের গল্প?
আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের সূচনা ১৯৫৩ সালে, যখন আন্তর্জাতিক নার্স কাউন্সিল (ICN) প্রথমবারের মতো নার্সদের অবদানের স্বীকৃতিতে একটি নির্দিষ্ট দিবস পালনের প্রস্তাব দেয়। যদিও প্রস্তাবটি তখনই বাস্তবায়ন হয়নি, প্রায় দুই দশক পর ১৯৭৪ সালের ১২ মে আনুষ্ঠানিকভাবে দিনটিকে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিনেই পালিত হয় এই দিনটি। ‘দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ খ্যাত নাইটিঙ্গেল ক্রিমিয়ান যুদ্ধে আহত সৈন্যদের সেবায় চিকিৎসাবিদ্যায় নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। তাঁর জন্মদিনে নার্স দিবস উদযাপন যেন এক প্রতীকী শ্রদ্ধাঞ্জলি তাঁর প্রতি এবং একই সঙ্গে সব নার্সের প্রতি।
এই দিবসটির গুরুত্ব সহজভাবে বললে, একজন চিকিৎসক যেমন রোগ নির্ণয় করেন, নার্স তেমনি সেই চিকিৎসার বাস্তব রূপ দিয়ে রোগীকে সুস্থ করে তোলেন। ইনজেকশন থেকে শুরু করে ওষুধ প্রয়োগ, খাওয়ানো, পরীক্ষা করানো— নার্সদের ভূমিকাই রোগীর স্বস্তির বড় অংশ। এই অক্লান্ত সেবার স্বীকৃতি দিতেই নার্স দিবস।
আন্তর্জাতিক নার্স দিবসে জাতিসংঘভুক্ত বিভিন্ন দেশে নার্সদের সম্মান জানাতে দেওয়া হয় উপহার, আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচার ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজকে জানানো হয়, নার্স মানেই শুধু হাসপাতালের এক কর্মী নন— তাঁরা আমাদের সুস্থ জীবনের অতন্দ্র প্রহরী।
এই প্রতিবেদনে “গণমাধ্যম” তুলে ধরেছে নার্সদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা এবং শ্রদ্ধা।