মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
জুলাইয়ের শপথে নতুন বিপ্লব, জন্ম নিল ‘আপ বাংলাদেশ’!
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সংযোজন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ‘ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)’ নামের একটি সংগঠন, যার ভিত্তি গড়ে উঠেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও শক্তিকে কেন্দ্র করে। শুক্রবার, ৯ মে বিকেল সাড়ে ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার ঘোষণা দেন আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। একইসঙ্গে ঘোষণা করা হয় ৮২ সদস্যের বিশাল কেন্দ্রীয় কমিটি। কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন আরেফিন মুহাম্মদ হিজবুল্লাহ, যিনি হয়েছেন সদস্য সচিব। রাফে সালমান রিফাতকে প্রধান সমন্বয়কারী, নাঈম আহমেদকে প্রধান সংগঠক এবং শাহরীন ইরাকে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি ছিল এক আবেগঘন মিলনমেলা। চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা সমবেত হন। সেইসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা, যারা এই আন্দোলনের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, এই সংগঠন কেবল আরেকটি রাজনৈতিক দলের নাম নয়; এটি একটি অঙ্গীকার, একটি শপথ, যা জুলাইয়ের রক্তস্নাত স্মৃতিকে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখবে। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা দেন, “আমাদের রাজনীতি শহীদ পরিবারের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অন্য কোনো ব্যক্তিগত বা সুবিধাবাদী রাজনীতির আমরা অংশীদার হব না।”
জুনায়েদ আরও বলেন, এই প্ল্যাটফর্মকে পলিটিক্যাল প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের যে তেজ ও স্পিরিট তা দিন দিন মানুষের মন থেকে ফিকে হয়ে যাচ্ছে, আর সেখান থেকেই এই প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। “জুলাইয়ের দাবি ও স্পিরিটকে ঘিরে নতুন রাজনীতির বীজ বপন করতে না পারলে, আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, তা আর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। আমরা আধিপত্যবাদ ও শোষণের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে পিলখানা, শাপলা এবং জুলাই গণহত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা, ফ্যাসিবাদী শক্তি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা, এবং আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক পুনর্বাসন। তবে এখানেই থেমে নেই তাদের দূরদৃষ্টি। জুনায়েদ জানান, ‘আপ বাংলাদেশ’ একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছে—বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূলে থাকা পেশিশক্তি, দুর্নীতি এবং দুর্বৃত্তায়নের ঘুণ ধ্বংস করে সমাজে নৈতিক ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, সমাজে সুবিচার ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি নতুন সামাজিক চুক্তি তৈরি করতে হবে, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে সম্মান জানানো হবে এবং প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
আলী আহসান জুনায়েদ এক চ্যালেঞ্জিং বক্তব্যে বলেন, “আমরা যে বৃত্তের মধ্যে বন্দি হয়ে আছি—দুর্নীতি ও রাজনীতির অপরাজনীতি—তা উপড়ে ফেলাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই আন্দোলনে আমরা সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাই। কারণ, এই লড়াই কেবল একটি সংগঠনের নয়; এটি বাংলাদেশের প্রতিটি ন্যায়বোধসম্পন্ন মানুষের আন্দোলন।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম হবে সেই মঞ্চ, যেখান থেকে নতুন প্রজন্ম ন্যায়ের শিখা হাতে তুলে নেবে। তাদের ভাষায়, “জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হয়। সেই শিক্ষা নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।” এভাবেই, বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন আলোর দিশা নিয়ে যাত্রা শুরু করল ‘আপ বাংলাদেশ’।