মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন
উত্তপ্ত ঢাকায় আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে পানি ছিটিয়ে স্বস্তি!
অনলাইন ডেস্ক
নিষিদ্ধের দাবিতে আওয়ামী লীগবিরোধী সমাবেশ জমে উঠেছে। শুক্রবার (৯ মে) বিকেল পৌনে তিনটায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন সড়কে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এই উত্তপ্ত কর্মসূচি শুরু হয়। তেলাওয়াত পরিচালনা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রভাবশালী নেতা আশরাফ মাহাদী।
সমাবেশ শুরু হতেই তীব্র রোদ আর অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন উপস্থিত আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকেল ৩টা থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) স্প্রে ক্যানন দিয়ে পানি ছিটাতে দেখা যায়। লক্ষ্য একটাই—সমাবেশস্থলের উত্তাপ কমিয়ে সবাইকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া।
গণমাধ্যমের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ডিএনসিসির দুটি স্প্রে ক্যাননের গাড়ি সমাবেশস্থলে অবস্থান নেয়। এর মধ্যে একটি গাড়ি নিরবচ্ছিন্নভাবে বিকেল তিনটা থেকে পানি ছিটিয়ে যাচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি ছিটানোর প্রক্রিয়া চলমান ছিল।
পানি ছিটানোর পরপরই আন্দোলনকারীদের মধ্যে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে। ভয়াবহ গরমের মধ্যে এমন প্রশমক উদ্যোগের জন্য আন্দোলনকারীরা ডিএনসিসিকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান।
এদিকে সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ছাত্র-জনতাকে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন হাতে সরব উপস্থিতি জানাতে দেখা যায়।
গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ইসলামী দলগুলো ছাড়াও নানা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মিছিলের ঢেউ তুলতে তুলতে সমাবেশস্থলে আসছেন। সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিচ্ছেন এই বিশাল জমায়েতে।
এর আগে সকালে যমুনার সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের ঘোষণা দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, “ফোয়ারার সামনে মঞ্চে আজকের জনসমুদ্রই প্রমাণ করবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ কতটা গভীর।”
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ১০টা থেকে টানা বিক্ষোভ চলছে। এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একে একে বিক্ষোভে সামিল হয়। রাত ১টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন মিছিল নিয়ে যমুনার সামনে উপস্থিত হন। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারাও।
শুধু এনসিপিই নয়, বিক্ষোভে অংশ নেন হেফাজতে ইসলাম, এবি পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ একাধিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাত দেড়টায় এবি পার্টির নেতাকর্মীরা এবং রাত ২টায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা যোগ দেন। এছাড়া গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, জুলাই ঐক্য, ইনকিলাব মঞ্চের নেতারাও বিক্ষোভে সরব ভূমিকা রাখেন।