রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক, এটি আমরা সবাই জানি। সিগারেটের প্যাকেটেই সতর্কবার্তা হিসেবে এর ক্ষতিকর দিকগুলো উল্লেখ থাকে। তবু অনেকেই স্ট্রেস কমানোর উদ্দেশ্যে কিংবা আনন্দের মুহূর্তে ধূমপান করে থাকেন। কিন্তু এটি যে শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
শরীরের ক্ষতির পাশাপাশি ধূমপান চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও ভয়াবহ হুমকি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত ধূমপান চুলের ঘনত্ব কমায় এবং অকালে টাক পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। আজকাল পুরুষ ও নারী উভয়েই চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন। এমনকি তরুণ বয়সেই টাক পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গবেষণায় জানা গেছে, দিনে ১০টি সিগারেট ধূমপানের ফলে চুল পড়ার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়।
কেন ধূমপান চুলের ক্ষতি করে?
ধূমপানের ফলে রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়, যা চুলের ফলিকলে রক্তপ্রবাহ কমায়। রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে ফলিকলে যথেষ্ট অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায় না। এর ফলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অকালে ঝরতে শুরু করে। ধূমপান ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইচটি) হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যা নারীদের তুলনায় পুরুষদের টাক পড়ার ঝুঁকি আরও বেশি করে তোলে। তামাকের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ফলিকুলার কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে চুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
ধূমপানের কারণে শরীরে প্রচুর ফ্রি-র্যাডিকাল উৎপন্ন হয়, যা শুধু শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষতিই করে না, বরং স্ক্যাল্পের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে করে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চুল ঝরে যায়।
যদিও ধূমপান ত্যাগ করলেই চুল আবার আগের মতো ঘন হয়ে যাবে— এমনটি ভাবা ভুল। দীর্ঘদিনের ধূমপানের ক্ষতি হঠাৎ করে পূরণ হয় না। তবে ধূমপান ত্যাগ করার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার মাধ্যমে চুলের যত্ন নিলে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ধূমপান ত্যাগ চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে। তাই নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য এবং সুন্দর চুলের জন্য ধূমপান ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।