রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
পবিত্র রমজান মাসে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অফিস সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং অন্যান্য জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের আইন ও বিধি অনুযায়ী অফিস সময় পুনঃনির্ধারণ করেছে।
রমজানে রোজা রাখার কারণে দিনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসে। এ সময় ঘুম, খাবার গ্রহণ ও কর্মঘণ্টা অনেকটাই বদলে যায়, যা কর্মজীবীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই কর্মক্ষেত্রে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, তার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত।
রমজানে কর্মজীবীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ঘুমের অভাব। রাতের তারাবি নামাজের পর সেহরি খাওয়ার জন্য ঘুমের রুটিন পরিবর্তিত হয়। এতে ক্লান্তি, অবসন্নতা, তন্দ্রাভাব ও কাজে অমনোযোগিতা দেখা দেয়। এ সমস্যায় পড়ে যাতে অফিসের কাজে প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। রোজার প্রথম থেকেই ঘুমের রুটিন তৈরি করা উচিত। ইফতারের পর কিছু সময় বিশ্রাম নিন, তারাবির নামাজের আগে কিছুটা ঘুমিয়ে নিলে রাতে ভালো ঘুম হবে। সাহরি শেষে ফজর নামাজের পরও কিছু সময় ঘুমিয়ে নেওয়া যেতে পারে, এতে দিনের বেলা ক্লান্তি কম হবে।
রমজানে, এমন কাজগুলো যা বেশি মনোযোগ ও শক্তি নিয়ে করতে হয়, তা দিনের প্রথম ভাগে শেষ করে ফেলুন। যেমন: গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, কল, ভিডিও কনফারেন্স। জটিল কাজগুলো আগে করে নিলে মানসিক চাপও কম হবে, অস্থিরতা অনুভব হবে না। কাজ ভাগ করে নিলে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
যেসব কাজ অনলাইনে করা সম্ভব, যেমন জুম বা গুগল মিটে, সেগুলো অনলাইনে করাই ভালো। এতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে শক্তি অপচয় করতে হবে না। সময় সাশ্রয়ী হবে এবং মনোযোগও ভালো থাকবে। রমজানে একটি কাজের তালিকা তৈরি করে, সে অনুযায়ী পূর্ব প্রস্তুতি নিলে সময় ও শ্রমের সাশ্রয় হবে।
রমজান মাসে বাসায় অফিসের কাজ নিয়ে এসে রাতেও কাজ করতে হয় অনেক কর্মীকে। এটি তাদের শরীর ও মনকে ক্লান্ত করে দেয়। সুতরাং, অফিসের কাজ অফিসেই সেরে নিন এবং সময়মতো বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নিন। বাড়িতে কাজ নিয়ে আসা ক্লান্তি বাড়ায় এবং শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটায়।
রমজানে স্বাস্থ্য সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। সুষম খাদ্য গ্রহণ কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ইফতার, রাতের খাবার ও সাহরিতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ইফতারিতে ভাজাপোড়া ও বাইরের খাবারের পরিবর্তে মৌসুমি ফল, দই, চিড়া, পানীয় ইত্যাদি রাখতে হবে। সাহরি ও রাতের খাবারে দুধ, ডিম, মাছ, মাংস ও সবজি বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা কম হয় এবং দিনের বেলা কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
রমজান মাসে সঠিক জীবনযাপন ও খাবারের মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব। ঘুম, খাদ্য এবং অফিসের কাজ সুষমভাবে পরিচালনা করলে রোজা রাখার অভিজ্ঞতা উপভোগ করা যায়, সেই সঙ্গে কাজের পরিবেশও স্বাভাবিক থাকে।