সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি তাদের বার্ষিক সম্মেলনে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে “জাতিগত হত্যাযজ্ঞ” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সম্মেলনে গৃহীত ঐতিহাসিক প্রস্তাবে ইসরায়েলের ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও দেশটিতে অস্ত্র বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানানো হয়।
লিভারপুলে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে লেবারের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধি অংশ নেন। তাদের ভোটে পাশ হওয়া এ প্রস্তাবকে দলটির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে লেবার পার্টি জাতিসংঘের অনুসন্ধান কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান একীভূত করল— যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ইসরায়েল গাজায় জাতিগত হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং তা অব্যাহত রেখেছে।
প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইনের পরিচালক বেন জামাল বলেন, “এই ভোট সরকারের জন্য বড় ধাক্কা। লেবার অবশেষে স্বীকার করেছে— গাজায় যা ঘটছে তা এক নির্মম জাতিহত্যা। এখন প্রয়োজন, এই অবস্থানকে সরকারী নীতিতে পরিণত করা।”
ট্রান্সপোর্ট স্যালারিড ইউনিয়নের (টিএসএসএ) সাধারণ সম্পাদক মারিয়াম এসলামদুস্ত বলেন, “আজ লেবার আন্দোলন ইতিহাসের সঠিক পাশে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনের মানুষের সঙ্গে সংহতি ঘোষণা করে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি— অবিচারের সামনে নীরব থাকা যাবে না।”
এই প্রস্তাব পাস হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর এখন নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও যুক্তরাজ্য সম্প্রতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও সরকার এখনো গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিহত্যা’ ঘোষণা করতে রাজি হয়নি। এতে লেবার সমর্থক ও কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ছে।
গত বছর ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি সংক্রান্ত ৩৫০টি লাইসেন্সের মধ্যে ৩০টি স্থগিত করলেও, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশের লাইসেন্স বহাল রাখা হয়— যা সরাসরি গাজায় ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, লেবার ভোটারদের ৭২ শতাংশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা চায়।
সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্কেও দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। এই মাসের শুরুতে লন্ডনে আয়োজিত বৃহত্তম অস্ত্র প্রদর্শনীতে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ব্রিটেনের ফিলিস্তিন স্বীকৃতিকে ‘হামাসকে পুরস্কৃত করা’ বলে সমালোচনা করেছেন। তবে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সম্প্রতি লন্ডনে এসে স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং স্বীকার করেন— মতপার্থক্য থাকলেও স্টারমার এখনও ইসরায়েলের একজন বিশ্বস্ত মিত্র।
এই প্রস্তাবের মাধ্যমে লেবার পার্টি জানিয়ে দিল— তারা ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকারের পাশে দাঁড়িয়েছে, এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি এখন আরও উচ্চকিত।