সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েল সবসময় দুর্বল দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে সুবিধা পেয়ে এসেছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান ছিল ব্যতিক্রম, যা তাদের জন্য বুমেরাং প্রমাণিত হলো। তেহরানী হামলার পর দেশটি উপলব্ধি করেছে, তারা কতটা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি। আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে ইরান ইসরায়েলকে কোনো ছাড় দেয়নি।
ইরানের পাল্টা হামলায় তেলআবিব বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চায়। এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি জড়িত হয়। তবে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় বাধ্য হয়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল।
এরপর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসরায়েলের শাসকদের উপহাস করে বলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত থেকে বাঁচতে ইসরায়েলকে পিতৃরূপ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছুটে যাওয়ার ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১২ দিনের ভয়াবহ সংঘাত ইসরায়েলের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছে। ক্ষতি স্বীকার না করলেও ধীরে ধীরে প্রকাশ হচ্ছে, কয়েক বিলিয়ন শেকেলের ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটি। ইসরায়েল ট্যাক্স অথরিটির মহাপরিচালক শাই আহারোনোভিচ বলেন, ক্ষতির পরিমাণ ‘কল্পনাতীত’।
ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস থ্রি’-র আওতায় তেলআবিব ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যদিও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কিছু হামলা প্রতিহত করতে পেরেছে, তবুও বহু ভবন ধ্বংস এবং সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি হলো, ইরান দুটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
যুদ্ধের পর ট্যাক্স অথরিটির কাছে ৫৩,৫৯৯টি ক্ষতিপূরণের দাবি জমা পড়ে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী সরাসরি ক্ষতি প্রায় ৪ বিলিয়ন নিউ ইসরায়েলি শেকেল (১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা ও অন্যান্য পরোক্ষ ক্ষতি মিলিয়ে কয়েক বিলিয়ন ছাড়িয়েছে।
সামরিকভাবে ইসরায়েলের দুর্বলতাও প্রকাশ পেয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী গোপন অভিযানে মোসাদের দুই সদস্যকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে ২০০ কেজি বিস্ফোরক ও ২৩টি ড্রোন উদ্ধার করা হয়েছে।
শাই আহারোনোভিচ জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স। এছাড়া ইরানের পাল্টা হামলার কারণে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল হয়ে গেছে।