রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক
টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনের দ্বার আবার খুলে দেওয়া হচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটক, জেলে, মৌয়াল ও বাওয়ালিদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগ ইতিমধ্যেই ১১টি পর্যটনকেন্দ্র ও অভয়ারণ্য এলাকাকে নতুন সাজে প্রস্তুত করেছে। এতে আবারও শুরু হবে জেলেদের মাছ ধরা, পর্যটকদের আনাগোনা ও মৌয়ালদের কার্যক্রম।
প্রতিবছর জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রজনন মৌসুমে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এবারও সেই নিয়ম মেনে ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রবেশাধিকার চালু হচ্ছে।
খুলনার ট্যুর অপারেটররা পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে প্রস্তুতি শেষ করেছে। নতুন রঙে সাজানো হয়েছে জাহাজগুলো। জানা গেছে, খুলনা জেলখানা ঘাট থেকে প্রায় ৭০টি জাহাজ সুন্দরবনের পথে যাত্রা করে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে করমজল, কটকা, কচিখালী, হারবাড়িয়া ও আন্ধারমানিকসহ ১১টি কেন্দ্র। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও ফরেস্ট স্টেশনগুলোও প্রস্তুত রয়েছে।
টোয়াস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত ৬৫টি লঞ্চ খুলনা থেকে সুন্দরবনে যায়-আসে। পর্যটকদের জন্য রয়েছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুই শতাধিক ট্যুর গাইড। জনপ্রতি প্যাকেজ ৭-২৩ হাজার টাকার মধ্যে। দেশি পর্যটকের জন্য প্রবেশ ফি ১,০৫০ টাকা এবং বিদেশিদের জন্য ১০,৫০০ টাকা।
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, পর্যটনকেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দীর্ঘ নীরবতার কারণে হরিণ, বানরসহ বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে। এখন সহজেই দেখা যায় তাদের চলাফেরা।
সুন্দরবনের প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার জুড়ে নদী-খাল, ৩৩৪ প্রজাতির গাছ, রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো এই বনকে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে। মৌয়াল, জেলে, বাওয়ালি মিলিয়ে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ এই বনের ওপর নির্ভরশীল।
চাঁদনি রাতে সুন্দরবনের সৌন্দর্য, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের দৃশ্য আর বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ পর্যটকদের বারবার এই বনের প্রতি টেনে আনে। তিন মাসের বিরতি শেষে আবারও সুন্দরবনে শুরু হচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্য। 🌿🌊