রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক
বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের তৃতীয় সন্তান খালেদা শৈশব কাটিয়েছেন উত্তরাঞ্চলের নীরব অথচ ঐতিহাসিক পরিবেশে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও জন্মদিনে কেক কাটা বা উৎসবমুখর আয়োজনের অনুমতি নেই। তবে তার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনায় রাজধানীসহ সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে সকাল ১১টায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনা বিদ্রোহীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমান। এই ট্র্যাজেডির পরই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দলের নেতাকর্মীদের জোরালো আহ্বানে ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন। এরপর একটানা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পেরিয়ে ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটকে বিজয়ী করে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসেন।
কিন্তু তার রাজনৈতিক জীবন সবসময় মসৃণ ছিল না। ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাবন্দি থাকতে হয়। সেই সময়ই প্রথমবারের মতো জন্মদিন কাটান কারাগারে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ফের বন্দি হন তিনি। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার ছয় মাসের জন্য তার সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেয়, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয়।
রাজনীতির নাটকীয় মোড় আসে গত বছরের ৫ আগস্ট। গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন রাষ্ট্রপতি তার সাজা বাতিল করে পূর্ণ মুক্তি দেন। মুক্তির কয়েক মাস পর ৮ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। সেখানে টানা ১৭ দিনের হাসপাতাল চিকিৎসা শেষে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় কিছুদিন কাটিয়ে চার মাস পর মে মাসে দেশে ফেরেন। বর্তমানে গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসায় বিশ্রামে আছেন বিএনপিপ্রধান।
দলীয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার জন্মদিনে শুধু তার জন্য দোয়া নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দেশব্যাপী মাহফিল হবে। দলীয় নেতাকর্মীদের কেক কাটা বা জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। এদিন পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানা গেছে।