বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন
১০ দিনের মধ্যে ঐতিহাসিক সনদ কি বাস্তব হবে?
অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন একটি সময়োপযোগী ও ঐতিহাসিক দলিল প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।
সোমবার (২৮ জুলাই) দ্বিতীয় দফার ২০তম দিনের বৈঠকের সূচনায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই সনদ যেন বাংলাদেশের আগামীর রূপরেখা হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।” কমিশনের নির্ধারিত ২০ দফা মৌলিক সংস্কারের মধ্যে ১২টি বিষয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “দলগুলোর একমতে পৌঁছাতে সহায়তার জন্য প্রস্তাবনাগুলোতে বারবার সংশোধনী আনা হচ্ছে।” আজকের আলোচনায় নারী আসনে নির্বাচনের পদ্ধতি এবং বাকি অনিষ্পন্ন ইস্যুগুলো তুলে ধরা হবে বলে জানান কমিশনের এই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা।
এছাড়া তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দিতে চাই না।” রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ দিনের মধ্যেই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
“বেশিরভাগ ইস্যুতে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছেছি,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই যদি সম্মিলিত প্রয়াস বজায় থাকে, তাহলে জাতি একটি ঐতিহাসিক সনদ পাবে।” রাজনৈতিক দলগুলোকে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আবারও আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কারকে কেন্দ্র করে জনগণের আশাবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “দলীয় অবস্থানের পার্থক্যের কারণে প্রতিদিন অর্জন না হলেও আমরা ধীরে ধীরে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি।”
দেশের স্বার্থে এই আলোচনার গতি ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কেউই আগের অবস্থানে ফিরে যেতে চাই না। তাই সব দলের উচিত দেশের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া।” তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, “আমরা কি কেবল ব্যক্তি ও দলের স্বার্থ দেখব, নাকি দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেব?” শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বেশিরভাগ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত্য গড়ে তোলা সম্ভব হবে।