বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
১০ বছরের মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত!
অনলাইন ডেস্ক
এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা যাবে—এমন সিদ্ধান্তে ঐকমত্য হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের। পাশাপাশি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনেও সবাই মিলেছে।
রোববার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনে কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ এসব তথ্য জানান। এই সংলাপে অংশ নেয়নি আওয়ামী লীগ, তাদের মিত্র জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলীয় জোটের কেউ। তবে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে।
আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছি, যদিও তা আগে প্রকাশ করা হয়নি। সেটা হলো, এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকা যাবে। আমরা সনদে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর নির্দিষ্ট করব। এই ব্যাপারে সবাই কি একমত?” তিনি এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যিনি আগে একটি শর্ত দিয়েছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ এ সময় বলেন, “আমরা স্পষ্ট বলেছি, ১০ বছরের বেশি কোনো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। তবে সংবিধান ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কমিটি থাকলে তা আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। আমরা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। তবে অন্য কোনো বিষয় আলোচনায় থাকলে আমাদের শর্ত বহাল থাকবে। এখন ১০ বছরের বিষয়টি ঘোষণা করা যেতে পারে। আসলে এটা আমাদেরই প্রস্তাব।”
এর আগে সংলাপের শুরুতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বাংলাদেশের পুলিশের পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘স্বাধীন পুলিশ কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার পর স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনে একমত হয়, যদিও আইনগত কাঠামো নিয়ে আরও আলোচনা চলবে।
আলী রীয়াজ জানান, “পুলিশ কমিশন গঠন নিয়ে আমরা ঐকমত্য পেয়েছি। গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো একযোগে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের পক্ষে রয়েছে, যা পুলিশের জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করবে।”
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনী যেন শৃঙ্খলাবদ্ধ, দক্ষ ও আইন সম্মত হয়ে দায়িত্ব পালন করে তা কমিশনের মূল লক্ষ্য। পুলিশের সদস্য এবং সাধারণ নাগরিক উভয়ের অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজ কমিশনের আওতায় আনা হবে।
কমিশন গঠন হবে একজন অবসরপ্রাপ্ত আপিল বিভাগের বিচারপতির নেতৃত্বে, যিনি ৭২ বছরের কম বয়সী হবেন। সদস্য সচিব হবেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি ৬২ বছরের নিচে থাকবেন।
সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও এই কমিশনে থাকবেন। থাকবে সংসদে সরকার দলের নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার (যিনি বিরোধীদল থেকে হবেন) একজন করে প্রতিনিধি। এছাড়া একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, একজন অভিজ্ঞ মানবাধিকার কর্মী এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা সদস্য থাকবেন।
খসড়ায় উল্লেখ আছে, কমিশনের অন্তত দুইজন সদস্য নারী হবেন। বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে, যার সদস্যদের মধ্যে থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংসদের স্বরাষ্ট্র সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন হাইকোর্ট বিচারক।
কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব পূর্ণকালীন কাজ করবেন, বাকিরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন। বৈঠকে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের জন্য আইন অনুযায়ী সম্মানী গ্রহণ করতে পারবেন।
কমিশনের দায়িত্ব, ক্ষমতা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত প্রয়োজন হবে।
এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো গণমাধ্যমকে জানান, আগামী দিনে দেশের শাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।