শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
ফ্যাসিবাদ রুখতে দৃশ্যমান ঐক্যই এখন সময়ের দাবি!
অনলাইন ডেস্ক
জুলাইয়ের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পরাজিত চক্রের অপতৎপরতার আভাস মিলছে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির সম্মিলিত অবস্থান এখন অত্যন্ত জরুরি—নইলে ষড়যন্ত্রকারীরা এটাকে দুর্বলতা ভাবতে পারে।
বুধবার (২৩ জুলাই) ১৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার গণমাধ্যম শাখা থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ড. ইউনূস বলেন, অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে আমরা ইতিহাস স্মরণে সব দলকে নিয়ে একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম, যেখানে একটি সুদৃঢ় ফ্যাসিবাদবিরোধী বার্তা যাবে জাতির কাছে। কিন্তু তার আগেই নানা অশুভ ইঙ্গিত চোখে পড়ছে। মতপার্থক্য থাকলেও এই ঐক্যকে চোখে পড়ার মতো করে গড়ে তুলতে হবে।
এদিনের বৈঠকে ফ্যাসিবাদ রুখতে রাজনৈতিক ও গণঐক্য ধরে রাখার ওপর জোর দেন অংশগ্রহণকারী নেতারা। পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রধান উপদেষ্টার আরও কঠোর ভূমিকা কামনা করেন তারা।
তারা আরও বলেন, সংস্কার, বিচার এবং অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে সর্বদলীয় সংলাপ আয়োজন জরুরি। এই আহ্বানে সবাই একমত পোষণ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, সিপিবি-র রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, গণফোরামের সেক্রেটারি ডা. মিজানুর রহমান।
এছাড়া অংশ নেন জেএসডির তানিয়া রব, ১২ দলীয় জোটের শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, খেলাফত মজলিসের ড. আহমদ আবদুল কাদের এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি, জামায়াত ইসলামি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। সেখানেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নেতারা।