সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন
জিহ্বার একঘণ্টার ভুল, জীবনভর অনুশোচনার কারণ!
অনলাইন ডেস্ক
**কথা বলা মহান আল্লাহর এক অমূল্য নিয়ামত। যারা এ নেয়ামত থেকে বঞ্চিত, তারা-ই জানে—কথা বলতে পারার অর্থ কতটা বড় দান। তবে কথা বলতে হবে বুঝে-শুনে, হিসেব কষে, দায়িত্বের সাথে।
আমরা প্রতিদিন অসংখ্য কথা বলি—দিন শেষে গণমাধ্যমের মতো নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, কী বললাম, কেন বললাম। নিজের ইচ্ছেমতো যত্রতত্র কথা ছুড়ে দেওয়াটা শক্তি নয়, বরং বিপদ ডেকে আনার নামান্তর। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি শব্দই রেকর্ড হচ্ছে। মহান আল্লাহ বলেন—
“মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা রেকর্ড করে এমন এক সজাগ প্রহরী তার সঙ্গেই থাকে।” (সুরা কাফ, আয়াত ১৮)
প্রয়োজনের বাইরে কথা বাড়ালেই বিপদ বাড়ে—ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এমনকি রাষ্ট্রীয় অঙ্গনেও সৃষ্টি হয় অস্থিরতা। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, অধিকাংশ ঝামেলার পেছনে থাকে অতিরিক্ত কথা বলা—মিথ্যা, গিবত, পরনিন্দা, অশ্লীল বাক্য, অহংকার আর তর্ক-বিতর্ক—সবকিছুর মূলেই এই জিহ্বা।
তিরমিজি শরিফে বর্ণিত, এক সাহাবি রসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমার ব্যাপারে আপনি সবচেয়ে ভয় পান কোন জিনিসটি?” নবীজী (সা.) তখন নিজের জিহ্বা ধরে বললেন—”এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।”
কথা বলে জয়ী হতে হলে আগে অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তারপর যাচাই করে, জেনে-বুঝে, বিনয়ের সাথে, বিচক্ষণতা দিয়ে সত্য উচ্চারণ করতে হবে। কারণ প্রতিটি কথা লিপিবদ্ধ হচ্ছে।
মিথ্যা নয়—সত্য, বিবাদ নয়—সদ্ব্যবহার, রূঢ়তা নয়—মিষ্টি ভাষা—এই হওয়া উচিত আমাদের নীতি। এমনভাবে কথা বলতে হবে যেন শত্রুও বন্ধু হয়ে যায়। আর যদি ভালো কিছু বলার না থাকে—তাহলে চুপ থাকাই উত্তম। রসুল (সা.) বলেন—
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে, নচেৎ চুপ থাকে।” (বুখারি শরিফ)
কথা কম বলা নিজেই এক ইবাদত। কম কথা বললে শত্রু কমে, আর সম্মান বাড়ে। কথার সাথে কাজের মিল থাকলে মানুষ বিশ্বাস করে। আর সুযোগ পেলেই খেয়ালখুশি মতো কথা বলে বেড়ালে সেই জিহ্বাই হয়ে উঠবে জাহান্নামের কারণ।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন—নবীজি (সা.) বলেন, “যে নীরব থাকে, সে-ই মুক্তি পায়।” (তিরমিজি)**