বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন
২৭ লাশের দাবিতে উত্তরা কাঁপাচ্ছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন গোলচত্বরে সকাল ১০টা থেকেই জমায়েত হতে থাকেন শত শত শিক্ষার্থী। কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবিতে জোরালো বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
আন্দোলন মঞ্চ থেকে শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দেন, দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে সরকারের কোনো প্রতিনিধি যদি তাদের সামনে এসে দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা না বলেন, তবে তারা উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সামনে প্রধান সড়ক অবরোধ করবেন।
তারা বলেন, “সরকার আমাদের কথা শুনবে না বুঝেই আমরা এই আল্টিমেটাম দিচ্ছি। সাড়ে বারোটার পর যদি কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে আমরা রাস্তা অবরোধ করবো। শান্তিপূর্ণভাবে বসে থাকলে কেউ কর্ণপাত করে না—এবার কার্যকর প্রতিক্রিয়ার সময় এসেছে।”
এর আগে, ‘বিচার চাই না, সন্তানের লাশ চাই’, ‘সঠিক লাশের হিসাব চাই’ ইত্যাদি লেখা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা সড়কে বসে পড়েন। পুলিশ বারবার সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা অনড় থাকেন এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থান চালিয়ে যান।
শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বক্তব্য—”আমরা সহিংসতা চাই না। কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে চুপ থাকবো না। এত বড় দুর্ঘটনার পরও কেউ দায় স্বীকার করছে না, ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এটা কেবল অবিচার নয়, এটা জবাবদিহিহীনতার চরম উদাহরণ। আমরা বিচার চাই।”
ছয় দফা দাবিতে রয়েছে—নিহতদের সুনির্দিষ্ট নাম-ঠিকানা প্রকাশ, আহতদের সঠিক তালিকা, শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা, ক্ষতিপূরণ প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ প্লেন বাতিল এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার পর উত্তরায় বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান। সেটি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। যে ভবনে বিমানটি আঘাত হানে, সেখানে তখন বহু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, যাদের অনেকেই হতাহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিস। উত্তরাসহ আশপাশের ৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার শুরু করে। পরে সেনাবাহিনী ও বিজিবিও অভিযানে যুক্ত হয়। আহতদের হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৭৮ জন।