শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
লেহেঙ্গা বা গাউন নয়, বাঙালি বউয়ের আসল সৌন্দর্য শাড়িতেই!
অনলাইন ডেস্ক
বিয়ের মৌসুম এলেই ফ্যাশনের রাজত্ব শুরু হয় কনের পোশাক নিয়ে। লেহেঙ্গা, গাউন কত কিছুই না আসে ট্রেন্ডে! কিন্তু যেটা চিরন্তন, সেটাই এখন হয়ে উঠেছে নতুন করে আধুনিক—কথা হচ্ছে শাড়ির। বাঙালি কনেকে শাড়িতে যে ঐশ্বরিক সৌন্দর্য পাওয়া যায়, তা অন্য কোনো পোশাকে কল্পনাও করা যায় না।
লাল বেনারসি একসময় ছিল একমাত্র কনের পরিচয়। কিন্তু আজকালকার কনেদের ভাবনায় এসেছে নতুন ঢেউ। কেউ মায়ের বিয়ের শাড়ি নতুন করে সাজিয়ে পরছেন, কেউ বা বেছে নিচ্ছেন জামদানি, মসলিন, কোটা, তসর বা রাজশাহী সিল্কের মতো দেশীয় ঐতিহ্যবাহী শাড়ি। রঙেও এসেছে বৈচিত্র্য—লাল ছাড়াও এখন জনপ্রিয় সাদা, মেরুন, কোড়া, বেগুনি, গোলাপি, সবুজ ও কমলার মতো রঙের শাড়ি।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আরামে। সাত-আট ঘণ্টা ধরে শাড়ি পরে থাকতে হবে জেনেই এখন কনেরা খোঁজেন হালকা, আরামদায়ক অথচ ঝলমলে শাড়ি। আর স্টাইল তো এখন কনের একান্ত নিজস্ব বিষয়! তাই ট্র্যাডিশনের সঙ্গে ট্রেন্ড মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এক নতুন সাজ-ধারা।
জামদানির জৌলুস কনের সাজে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। হাফ সিল্কের ঘন বুননের জামদানি যেমন দামেও তুলনামূলক সাশ্রয়ী, তেমনি এতে ফুটে ওঠে কনের স্টাইল স্টেটমেন্ট। পিওর কটন জামদানিতে স্বচ্ছন্দ্য বেশি, আর হালকা কপার বা ম্যাট গোল্ড জরির কাজ এই শাড়িকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
মসলিনের কাস্টমাইজড শাড়িগুলোও এখন কনের ফ্যাশনে অন্যতম। ডিজাইনাররা মসলিনে হ্যান্ড পেইন্ট, এমব্রয়ডারি, অ্যাপ্লিক কাজের সমন্বয়ে তৈরি করছেন একাধিক লুকের শাড়ি। একইভাবে রাজশাহী সিল্ক, কাতান বা বলাকা সিল্কেও করা হচ্ছে মন ছুঁয়ে যাওয়া ডিজাইন।
তবে শুধু শাড়ি নয়, পুরো লুকটাই হতে হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শাড়ির রঙ ও কাজের সঙ্গে মিলিয়ে ব্লাউজ, ওড়না ও গয়না—সবকিছুতেই চাই হরদম ভারসাম্য। গা ঝলমলে নয়, বরং ব্যক্তিত্ব ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রেখে সাজই এখন কনের মূল ফোকাস।
ফ্যাশনের জোয়ারে বদল এলেও, একটাই সত্য—বাঙালি বউ আর শাড়ি, এই জুটি কখনো পুরোনো হয় না!