বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
নির্বাচনের আগে রাজনীতি উত্তাল—কোথায় যাচ্ছেন ইউনূস সরকার?
অনলাইন ডেস্ক
নিত্য জটিল সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনীতির উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি, যেখানে আগামী রাজনীতির চেহারাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, রাজনীতির মাঠে বিভক্তির রেখা আরও গাঢ় হচ্ছে, এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অভাবে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে।
সরকার এখনও জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। যদিও প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে, কিন্তু তারিখের অস্পষ্টতায় বিরোধীদলগুলোর চাপ বাড়ছে ক্রমশ।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন দল স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে—নির্বাচন যদি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে না হয়, তবে ইউনূস সরকারকে আর সমর্থন দেওয়া হবে কি না, তা তারা পুনর্বিবেচনা করবে।
রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি খোলাখুলি বলেন, ‘নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই হওয়া উচিত।’ বিশ্লেষকরা একে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান অসন্তুষ্টির প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, নবগঠিত রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ বলছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল সংস্কার। তাদের দাবি—বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং স্থানীয় প্রশাসনে দলীয় হস্তক্ষেপের অবসান ছাড়া কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হবে না।
ইউনূস সরকার ইতোমধ্যে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (এনসিসি)’ গঠন করে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করেছে। তবে সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে প্রধান দলগুলোর মধ্যে বিভাজন তীব্র। বিশেষ করে, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে আলোচনা উত্তপ্ত।
জুনের শুরুতে দ্বিতীয় দফার সংলাপ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, তা কতটা ফলপ্রসূ হবে, এ নিয়ে আশঙ্কা রয়েই গেছে।
রাজনৈতিক টানাপড়েনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার চিত্রও উদ্বেগজনক। রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক সংগঠকদের বিক্ষোভে জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে চাকরির শর্তাবলি ও বেতন কাঠামোর বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, শিক্ষকরাও ন্যায্য বেতন ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার সংস্কারের দাবিতে রাজপথে সক্রিয়, যা সরকারকে আরও কোণঠাসা করে ফেলেছে।
এর মাঝেই আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সাজীব ওয়াজেদ সামাজিক মাধ্যমে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন—ড. ইউনূস ‘প্রতিশোধের রাজনীতি’ করছেন, এবং আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ দেশের গণতন্ত্রকেই ধ্বংস করবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত রাজনৈতিক সমঝোতা না হয় এবং নির্বাচন কার্যক্রম সর্বজনগ্রাহ্য না হয়, তবে দেশ বড় ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে অগ্রসর হতে পারে—এমনটাই ধারণা গণমাধ্যম-এর।