রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
বন্ধু মানে কি সত্যিই ভরসার মানুষ, নাকি মুখোশের আড়ালে লুকানো প্রতিযোগী?
অনলাইন ডেস্ক
বন্ধুত্ব মানে কি শুধু একসঙ্গে হাসি-আনন্দ, নাকি কখনও কখনও জীবনের সবচেয়ে বড় ধোঁকাও হতে পারে? ইতিহাসে যেমন আছে বন্ধুর জন্য জীবন উৎসর্গ করার কাহিনি, তেমনি আছে বিশ্বাসঘাতকতার করাল ছায়াও। তাই প্রশ্নটা খুবই বাস্তব—আসল বন্ধু কে?
ছোটবেলায় বন্ধুত্ব মানেই ছিল খেলার সাথি, স্কুলে হাত ধরে যাওয়া, ক্লাসে টিফিন ভাগ করে খাওয়া আর দুষ্টুমিতে গা ভাসানো। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলায় বন্ধুত্বের মানে। কৈশোরে সে হয় কাঁধে মাথা রেখে কান্না ভাগ করার মানুষ, তারুণ্যে হয় গোপন স্বপ্ন ও কথার সঙ্গী।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তো বন্ধুত্ব হয় যেন পরিবার হয়ে ওঠে। একসঙ্গে ক্লাস, লেকচার, অ্যাসাইনমেন্ট, এক কাপ চা, এক প্লেট খাবার, এক রকম জামা বানানো, এমনকি ঈদে একসঙ্গে বাড়ি ফেরা—সবকিছুতেই যেন একাত্মতা। মনে হয়, ব্যাচের সবাই-ই বন্ধু।
তবে কর্মজীবনে এসে শুরু হয় বাস্তবতা নামক কঠিন পরীক্ষার অধ্যায়। সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটলেও, সবার সঙ্গে কি গড়ে ওঠে সত্যিকারের বন্ধুত্ব? অফিসের টংদোকানের চায়ের আড্ডা আর দুপুরের খাবার ভাগাভাগির মাঝেও থাকে এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা।
এই প্রশ্নগুলো নিয়েই কথা বলেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কাপল কাউন্সেলর রউফুন নাহারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বন্ধু মানে এমন একজন, যার কাছে আপনি আরাম ও নিরাপত্তা বোধ করবেন। যে নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকবে।’
তাঁর মতে, বন্ধুত্ব কোনো স্থির সম্পর্ক নয়, এটি সময়ের সঙ্গে বদলায়। এমনকি স্বামী-স্ত্রী বা বউ-শাশুড়িও বন্ধু হতে পারেন, যদি থাকে শ্রদ্ধা, আরাম ও খোলামেলা কথা বলার পরিবেশ।
তবে সব বন্ধুর সঙ্গেই কি গোপন কথা ভাগ করা যায়? রউফুন নাহার মনে করিয়ে দেন, ‘যে কথাগুলো ভবিষ্যতে ক্ষতির কারণ হতে পারে, সেগুলো বলার আগে ভাবা উচিত। সম্পর্ক যেমন বদলায়, তেমন মানুষও বদলায়।’
সবশেষে তার পরামর্শ, গোপন কথা শেয়ার করতে চাইলে থেরাপিস্ট বা পেশাদার কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়াই ভালো। বন্ধুর কাঁধে সব ভার চাপিয়ে দিলে সেটা শুধু সম্পর্কের ভারসাম্যই নষ্ট করে না, আপনাকেও করে ফেলে আরও একা।