রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
ঈদের সকালে আতরের সুবাসে নিজেকে ঘিরে নিতে চাইলে, এবার বাজারে চোখ ধাঁধানো ঘ্রাণের বাহারেই যেন মাতোয়ারা শহর!
অনলাইন ডেস্ক
ঈদের দিন সকালে নতুন পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে কয়েক ফোঁটা আতর—এই দৃশ্য যেন বহুদিনের পরিচিত সংস্কৃতি। ঈদের সাজের এই শেষ টাচআপ এখন শুধু অভ্যেস নয়, বরং হয়ে উঠেছে এক সৌগন্ধময় স্টেটমেন্ট। আতরের চাহিদা বাড়ছে হু হু করে, আর সেই চাহিদা মেটাতে রমজান মাসে আতরের বাজারে লেগে থাকে জমজমাট উৎসবের আমেজ।
আতরের সবচেয়ে জমজমাট বাজার বসে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে। আতরের সুবাস যেন সেখানকার বাতাসে মিশে থাকে। এখানে দেশি-বিদেশি আতরের পসরা সাজিয়ে বসেছে ডজন খানেক দোকান। শুধু এখানেই নয়, চকবাজার, কাঁটাবন, গুলিস্তান আর মিটফোর্ডেও আতরের পাইকারি ও খুচরা বিক্রি জমে উঠেছে।
আতর ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে যেখানে আতরের কদর ছিল কেবল রমজানে, এখন তা সারা বছরজুড়ে চলছে। যদিও ঈদের আগের ১০-১৫ দিনেই বিক্রির ভলিউম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই এখন সবাই অপেক্ষায় ঈদের শেষ ঝলক আসার।
আতরের দাম ও ধরনও বৈচিত্র্যময়। দেশি আতরের পাশাপাশি বাজারে রয়েছে সৌদি, দুবাই, ভারত-পাকিস্তানের নানান ব্র্যান্ড। ৩ মিলি ছোট বোতল থেকে শুরু করে ১২ মিলির দামী আতর—যার মধ্যে ‘কস্তুরি’র দাম উঠে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত! তীব্র ঘ্রাণের পাশাপাশি এখন গ্রাহকের ঝোঁক হালকা, পারফিউমধর্মী আতরের দিকে।
মজার তথ্য হলো, আতরের জগতে বাংলাদেশের সুজানগর যেন এক গোপন রত্নভাণ্ডার। মৌলভীবাজারের এই গ্রামে ২৫০টিরও বেশি আগর-আতর কারখানা রয়েছে। এখানকার আতর রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এমনকি জাপান-চীনেও। রাজধানীর বাজারেও এ আতর পাওয়া যায়, যার দাম ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বর্তমানে জনপ্রিয় আতরের নামগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্লু দিশেনেল, আওয়াজ, ফ্যান্টাসি, ভ্যাম্পায়ার ব্লাড, আর নারীদের পছন্দ মিস ডিওর, গুড গার্ল ইত্যাদি।
যারা ঈদে আতর উপহার দেন, বিশেষ করে করপোরেট ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বেরা, তাঁদের আগমনও শুরু হয়েছে বাজারে। তবে সস্তায় ঘ্রাণ নয়, ভালো আতর চেনার মূলমন্ত্র হলো গাঢ় রঙ, ভারী গন্ধ আর নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড।
তাই এবার ঈদে ঘ্রাণে মাতোয়ারা হতে হলে, আতর বেছে নিন বুঝে শুনে!