সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দার মন্তব্য করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা আরব ও ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর যৌথ প্রস্তাবের প্রতিফলন নয়। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মিডল ইস্ট মনিটর বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে।
ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দার বলেন, “ট্রাম্পের পরিকল্পনা আমাদের পাঠানো মূল নথি নয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বাদ পড়েছে, যা আমরা অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলাম।”
তিনি আরও জানান, পাকিস্তানসহ সাতটি মুসলিম দেশ ইতোমধ্যেই গাজা যুদ্ধ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি যৌথ খসড়া পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। দার জোর দিয়ে বলেন, “এই খসড়াই আমাদের পূর্ণ সমর্থন পায়।”
প্রধানত, মূল খসড়ার মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, গাজায় রক্তপাত বন্ধ, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বন্ধের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পায়। তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবে এসব যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে ইসলামাবাদের অভিযোগ।
মার্কিন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত সাফা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ট্রাম্পের ২০-দফা পরিকল্পনা আরব ও ইসলামিক দেশগুলোর খসড়া তুলনায় অনেকটা পরিবর্তিত। রিপোর্টে বলা হয়, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছেন।
সূত্র মতে, নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা রন ডার্মারের সঙ্গে ছয় ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠকে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের শর্ত ও সময়সূচি বদলানো এবং মানবিক ইস্যুর গুরুত্ব হ্রাসের জন্য চাপ দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দার স্পষ্ট করেন, তারা এমন শান্তি পরিকল্পনার পক্ষে, যা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, পূর্ণ মানবিক সহায়তা এবং গাজাবাসীর অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। তার মতে, ট্রাম্পের পরিকল্পনা এই লক্ষ্যগুলো যথাযথভাবে পূরণ করছে না, বরং এতে ইসরাইলের স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।