সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) সদর দপ্তরের নিকটে বিস্ফোরণটি ঘটে, যা মুহূর্তেই পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, কোয়েটার মডেল টাউন এলাকা থেকে হালি রোডে প্রবেশের সময় একটি গাড়ি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে, আশপাশের দোকান, যানবাহন ও ভবনের কাচ মুহূর্তেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং অভিযানে চার সন্ত্রাসীকে হত্যা করে।
বেলুচিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বখত মুহাম্মদ কাকার জানিয়েছেন, নিহত ও আহতদের দ্রুত কোয়েটার সিভিল হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আহতদের মধ্যে অন্তত ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”
বিস্ফোরণের পর প্রদেশজুড়ে সব হাসপাতালকে জরুরি অবস্থায় রাখা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সবাইকে জরুরি ডিউটিতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগতি ঘটনাটিকে “সুস্পষ্ট সন্ত্রাসী হামলা” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন,
“এই হামলা পাকিস্তানি জাতির মনোবল দুর্বল করতে পারে না। আমরা বেলুচিস্তানকে শান্তি ও উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এক বিবৃতিতে নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেন, “ভারত সমর্থিত সন্ত্রাসীরাই এই হামলার পেছনে। ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ ও ভারতের প্ররোচিত গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে।”
হামলার পর গোটা কোয়েটা শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।