শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
ভালোবাসা কি সবসময় সুখ আনে? এই ৫টি ছবি বলবে না!
অনলাইন ডেস্ক
নিশ্চয়ই আপনি যদি রোমান্টিক সিনেমার ভক্ত হন, তাহলে সবসময় এক সুখী পরিণতির অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু এমন কিছু পরিচালক আছেন, যারা আপনাকে রীতিমতো আবেগে ভাসিয়ে এক করুণ পরিণতির মুখোমুখি করেন। গণমাধ্যম-এর আজকের আয়োজনে থাকছে তেমনই ৫টি হৃদয়বিদারক রোমান্টিক সিনেমার তালিকা—যা দেখে চোখের জলে ভিজে যেতে পারে আপনার সন্ধ্যা। সাবধান! এগুলো নিঃশব্দ কান্নার গভীরে ডুবিয়ে নিতে পারে আপনাকে।
‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’
করণ জোহরের পরিচালনায় ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই আবেগঘন ছবিতে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর ও আনুশকা শর্মা। গল্পটি একতরফা ভালোবাসার যন্ত্রণা ঘিরে, যা আয়ান নামের এক যুবকের হৃদয়কে টুকরো টুকরো করে দেয়। আলিজেহ নামের এক প্রাণবন্ত তরুণী তার জীবনে আসে, বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, আর আয়ান ভুল করে বসে প্রেমে। কিন্তু আলিজেহ অন্য একজনকে বিয়ে করে ফেলে, আর আয়ানের হৃদয় চুরমার হয়ে যায়।
আয়ান পরবর্তীতে সাবার (ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন)-এর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করলেও হৃদয়জুড়ে রয়ে যায় কেবল আলিজেহ। তাদের আবার দেখা হলেও, শেষ হয় এক অসহ্য পরিণতিতে। আলিজেহ মারা যায় ক্যান্সারে, আর দর্শকদের চোখে রেখে যায় তীব্র কষ্টের ছাপ।

রণবীর ও আনুশকার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, ফাওয়াদ খান, লিসা হেডন, ইমরান আব্বাসসহ অনেকে।
‘হাইওয়ে’
২০১৪ সালের এই সিনেমায় দেখা যায়, আলিয়া ভাটকে অপহরণ করে রণদীপ হুদা। কিন্তু অপহরণের পর যে জীবন আসে, তা আলিয়াকে অন্য এক দুনিয়ায় নিয়ে যায়—যেখানে সে নিজের আসল সত্তাকে খুঁজে পায় এবং ভালোবাসা অনুভব করতে শেখে। অপহরণকারী রণদীপের প্রতিও গড়ে ওঠে ভালোবাসা, আর গল্প ক্রমে এগিয়ে চলে এক অনন্য সম্পর্কের দিকে।

তবে ঠিক যখন আপনি ভাববেন, এই গল্পে রোমান্টিক মোড় আসছে, তখনই পুলিশ এসে হত্যা করে রণদীপকে। নির্মাতা ইমতিয়াজ আলি এই দৃশ্য দিয়ে যেন দর্শকদের আবেগ একেবারে তছনছ করে দেন। অভিনয়ে ছিলেন আলিয়া, রণদীপ ছাড়াও দুর্গেশ কুমার, নয়না ত্রিবেদী, প্রদীপ নগর প্রমুখ।
‘লায়লা মজনু’
কাশ্মীরের পটভূমিতে রচিত লায়লা ও কায়েসের গল্প শুরু হয় ভুল বোঝাবুঝি দিয়ে। এরপর সময় বয়ে চলে, আর লায়লা অন্য একজনকে বিয়ে করে নেয়। বছরখানেক পর যখন তারা আবার মুখোমুখি হয়, তখনও ভালোবাসা অটুট; কিন্তু জীবন আর সময় এক সুরে বাজে না।

শেষ দৃশ্যে আসে মর্মান্তিক পরিণতি—তারা কেউই বেঁচে থাকে না, আর একে অপরকে আর একবারও দেখতে পারে না। সাজিদ আলির পরিচালনায় ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে অসাধারণ অভিনয় করেন অবিনাশ তিওয়ারি ও তৃপ্তি দিমরি।
‘দিল বেচারা’
২০২০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমাটি হৃদয়ের সমস্ত স্নায়ুকে ছুঁয়ে যাবে। দুই তরুণ-তরুণীর প্রেমের গল্প, যাদের একজন ক্যান্সার আক্রান্ত। মেয়েটির হাতে সময় কম, তাই ছেলেটি সিদ্ধান্ত নেয় তার প্রতিটি মুহূর্তকে সুখ দিয়ে ভরিয়ে তুলবে।

কিন্তু হঠাৎ করেই ছেলেটি জানতে পারে তার পুরোনো অসুস্থতা ফিরে এসেছে। শেষপর্যন্ত তার মৃত্যু দিয়ে শেষ হয় গল্প, আর মেয়েটি পড়ে থাকে ভাঙা হৃদয় নিয়ে। মুকেশ ছাবরার পরিচালনায় সুশান্ত সিং রাজপুত ও সঞ্জনা সংঘী ছবিটিতে প্রাণ ঢেলে অভিনয় করেছেন।
‘শিদ্দত’
এই ছবিটি এক তরুণের আবেগ, ভালোবাসা আর সংগ্রামের গল্প। সে এক কলেজের মেয়েকে ভালোবাসে, কিন্তু মেয়েটি চলে যায় লন্ডনে। ছেলেটি ভিসা না পেলেও নানা উপায়ে লন্ডন পৌঁছাতে চায়।
সবকিছু পেরিয়ে যখন মেয়েটির খুব কাছে চলে আসে, তখনই ঘটে দুর্ঘটনা—যা গল্পটিকে এক নির্মম ট্র্যাজেডিতে পরিণত করে। কুণাল দেশমুখ পরিচালিত এই ২০২১ সালের সিনেমায় সানি কৌশল ও রাধিকা মদন প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

এই তালিকার সিনেমাগুলো শুধু দেখার জন্য নয়—অনুভব করার জন্য। কারণ কখনো কখনো ভালোবাসা হয়তো পূর্ণতা পায় না, কিন্তু তার গভীরতা থেকে যায় চিরকাল।