শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন
নয় মাস পর মিলল মরদেহ, রহস্যে ঘেরা অভিনেত্রীর মৃত্যু
অনলাইন ডেস্ক
করাচির ডিফেন্স ফেইজ-৬ এলাকার নিজের ফ্ল্যাট থেকে অভিনেত্রী হুমায়রা আসগরের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের চার দিন পর শুক্রবার (১২ জুলাই) লাহোরে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা ও দাফনের সময় প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তার বাবা। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে কিছু অজানা তথ্য এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা গুজবের জবাব।
জানাজায় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চান, কেন তিনি প্রায় ৯ মাস ধরে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়ে তার মন্তব্য কী। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। এসব তথ্য আমার ছেলের কাছে আছে। আমার কাছে স্মার্টফোন নেই, সাধারণ মোবাইলই ব্যবহার করি।’
গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছিল, নাকি পরিবার হুমায়রার মরদেহ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ বিষয়ে হুমায়রার বাবা বলেন, ‘এই অভিযোগ সত্য নয়। আমরা কখনোই মরদেহ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাইনি। মেডিকেল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় মরদেহ হস্তান্তরে দেরি হয়েছিল।’
মেয়ের মৃত্যুর তদন্ত হওয়া উচিত কি না- জানতে চাইলে তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু বলেন, ‘যা আল্লাহ চান, তাই হবে।’ এ সময় হুমায়রার এক চাচাতো ভাই জানান, তার বাবা তখন গ্রামে ছিলেন এবং বোনের মৃত্যুর কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এ কারণেই মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।
৮ জুলাই করাচির ইত্তেহাদ কমার্শিয়াল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে উদ্ধার করা হয় হুমায়রার মরদেহ। একজন আদালতের বেইলিফ বকেয়া ভাড়ার কারণে তাকে উচ্ছেদ করতে এসে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন এবং তখনই দুর্গন্ধ ছড়ানো মৃতদেহটি নজরে আসে।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জানা যায়, মরদেহটি ছিল পচনের চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিশেষ করে নিচের অংশে মাংস পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং সেখানে পোকামাকড় জমে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, হুমায়রার মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৯ মাস আগেই। ফলে তার বাবার সঙ্গে এতদিন যোগাযোগ না থাকাটাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠে।
সবকিছু শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয় এবং লাহোরে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় দাফন সম্পন্ন হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয়, হুমায়রার জানাজায় টেলিভিশন বা চলচ্চিত্র অঙ্গনের কেউ উপস্থিত ছিলেন না, যা পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
হুমায়রার এই করুণ মৃত্যু এবং মৃত্যুর পরের ঘটনাপ্রবাহ সামাজিক সংবেদনশীলতা, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বিনোদন জগতের ভেতরের নিঃসঙ্গ বাস্তবতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছে। এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।