রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
রোগে কষ্ট পাচ্ছেন? এই দোয়া পাল্টে দিতে পারে জীবন
অনলাইন ডেস্ক
সুস্থতা যেমন আল্লাহর অমূল্য নিয়ামত, তেমনি অসুস্থতার মাধ্যমেও আল্লাহ বান্দাকে পরীক্ষা করে থাকেন। তাই জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মুমিনের জন্য অপরিহার্য।
তবে রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে আরোগ্য লাভের জন্য কোরআনুল কারিমে বেশ কিছু মূল্যবান দোয়া রয়েছে। মহান রব বলেন, ‘প্রার্থনাকারী যখন আমাকে ডাকে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিই। অতএব, তারাও যেন আমার নির্দেশ মানে এবং আমার ওপর ঈমান আনে, তাহলে তারা সফলতা লাভ করবে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)।
আরও বলা হয়েছে, ‘যারা আমার পথে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়, তাদের আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে থাকেন।’ (সূরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের বিভিন্ন সময় আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা করে দোয়া করতেন। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল ঝুজামি, ওয়া সাইয়্যিল আসক্বাম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি শ্বেতরোগ, উন্মাদনা, খুজলি এবং অন্যান্য ঘৃণিত ব্যাধি থেকে তোমার আশ্রয় চাই। (আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৫৪)
এখানে স্মরণ রাখা জরুরি, অসুস্থতা দুনিয়ার এক কঠিন বাস্তবতা হলেও এর দ্বারা আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফ করেন। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে এসেছে, আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন— কোনো মুসলিম যদি দুঃখ-কষ্ট, রোগ, উদ্বেগ, চিন্তা বা কাঁটা বিদ্ধ হওয়ার মতো সামান্য যন্ত্রণাতেও পড়ে, তা তার গুনাহ মোচনের কারণ হয়। (হাদিস: ৫২৩৯)
দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত:
পবিত্র, হালাল ও বৈধ জীবিকা গ্রহণ করা। হারাম রোজগার, প্রতারণা, ওজনে কারচুপি, ভেজাল কিংবা বিশ্বাসভঙ্গ থেকে বিরত থাকা। আল্লাহর কাছে সবসময় কিছু চাওয়া এবং শুধু তাঁর কাছেই বেশি করে চাওয়া।
দোয়ার ভাষায় আল্লাহর নাম, ইসমে আজম ব্যবহার করা। কল্যাণের জন্য দোয়া করা, অন্যায় কাজের নিষেধ করা এবং দোয়ার প্রতি দৃঢ় আস্থা রাখা। মনোযোগ সহকারে দোয়া করতে হবে এবং দ্রুত ফলাফল প্রত্যাশা না করে ধৈর্য ধরতে হবে।