রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন
চাঁদাবাজদের জন্য চারটি ভয়ংকর শাস্তি ঘোষণা করেছে ইসলাম!
অনলাইন ডেস্ক
চাঁদাবাজি—একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এটা দস্যুতারই এক আধুনিক রূপ, যা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম এবং জঘন্য কবিরা গুনাহ। চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িতরা আখিরাতে ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হবেন বলে হুশিয়ারি দিয়েছে ইসলাম।
শান্তির ধর্ম ইসলামে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজির পেছনে যারা আছে—উত্তোলনকারী, লিখনকারী, গ্রহণকারী—তারা সবাই সমান গুনাহর ভাগীদার।
মহান আল্লাহ এই অপরাধীদের জন্য নির্ধারণ করেছেন চারটি ভয়াবহ শাস্তি।
কোরআনে ঘোষণা এসেছে—জোর করে কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে কারো সম্পদ দখল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনের ভাষ্য, ‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ কোরো না এবং বিচারকের মাধ্যমে কারও সম্পদ আত্মসাৎ কোরো না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কারো অনুমতি ছাড়া তার সম্পদ হস্তগত করা হারাম। (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান, হাদিস : ১৬৭৫৬)
এমন অপরাধীদের জন্য ইসলামে রয়েছে ৪টি কঠিন শাস্তি:
চাঁদাবাজদের আল্লাহর জমিনে অশান্তি ছড়ানো ও ভয়ভীতি সৃষ্টির অপরাধে হত্যা, শূলে চড়ানো, বিপরীত দিকের হাত-পা কেটে ফেলা বা নির্বাসন দেওয়া—এই চারটির যেকোনো একটিতে দণ্ডিত করার নির্দেশ রয়েছে।
এই শাস্তির কথা বলা হয়েছে কোরআনের সুরা মায়িদাহ এর ৩৩ নম্বর আয়াতে:
আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং পৃথিবীতে ত্রাস সৃষ্টি করে, তাদের হত্যা, ফাঁসি, অঙ্গচ্ছেদ কিংবা নির্বাসনের মাধ্যমে দণ্ড দিতে হবে…।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ৩৩)
এছাড়াও চাঁদাবাজরা মানুষের হক কেড়ে নেওয়ায়, পরকালে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে ভুক্তভোগীদের গুনাহ। হাদিসে এসেছে, ‘জুলুমকারীরা যদি দুনিয়ায় ক্ষমা না চায়, তবে আখিরাতে তাদের ভালো আমল কেটে ভুক্তভোগীদের দেওয়া হবে। পুণ্য শেষ হলে অপরাধীদের গুনাহ তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৮৫)
সুতরাং, চাঁদা তোলায় জড়িত সবাই—উত্তোলনকারী, ভোগকারী, সহযোগী—জুলুমের সঙ্গে যুক্ত। দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন পরিণতি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা অন্যায়ভাবে দুনিয়ায় তাণ্ডব চালায়, তাদের জন্য রয়েছে ভয়ানক শাস্তি।’ (সুরা শুরা, আয়াত : ৪২)