বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
চরম গরমেও মিনার পথে লাখো হাজির ঈমানী যাত্রা!
অনলাইন ডেস্ক
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে শুরু হয়েছে হজের আনুষ্ঠানিকতা, আরবি হিজরি সন ১৪৪৬ সালের জিলহজ মাসের ৮ তারিখ আজ। হজের আনুষ্ঠানিকতা সূচনা হয় মিনায় অবস্থানের মাধ্যমে, যা জিলহজের ৮ তারিখ ‘ইয়াওমুত তারওয়িয়াহ’ হিসেবে পালিত হয়। এরপর হাজিরা ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে সমবেত হন, ১০ জিলহজে পশু কোরবানি দেন, এবং পরবর্তী দুইদিন হজের নানা গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়—সবমিলিয়ে হজের সময়কাল পাঁচদিন।
আজ বুধবার ভোরে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মিনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ‘ইয়াওমুত তারওয়িয়াহ’র জন্য, যা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত অনুসারে করা হয়। এ যাত্রাপথে তারা তালবিয়া পাঠ করেন এবং আল্লাহর জিকির ও তাসবিহে মগ্ন থাকেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১৪ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক হাজি এবং কয়েক লাখ সৌদি নাগরিক এতে অংশ নিয়েছেন।
মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোর রাজকীয় কমিশনের অধীনস্থ হজ ও ওমরাহ বিভাগের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আল-কারনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক হাজিরা গত ৩৬ দিন ধরে মক্কায় পৌঁছাচ্ছেন এবং অভ্যন্তরীণ হাজিরারাও মঙ্গলবার রাতেই মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। তাওয়াফুল কুদূম সম্পন্ন করে তারা হজের মূল আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন।
ড. কারনি জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মিনায় যাওয়ার যাত্রা চলবে। এরপর হাজিরা তিন ধাপে—মাশায়ির ট্রেন, বহুমুখী পরিবহন ও ঐতিহ্যবাহী যানের মাধ্যমে আরাফার ময়দানে যাবেন। বৃহস্পতিবার ৯ জিলহজ সকালে প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার হাজি মাশায়ির ট্রেনে এবং আরও ৭ লাখ ২০ হাজার হাজি অন্যান্য পরিবহনে আরাফায় পৌঁছাবেন।
মিনার ঐতিহাসিক আল-খায়ফ মসজিদে হাজিদের সুবিধার্থে ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, দাওয়াহ ও গাইডেন্স মন্ত্রণালয় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রায় ২৭ হাজার বর্গমিটার এলাকায় জায়নামাজ বিছানো হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও একীভূত ব্যবস্থাপনায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ, স্মার্ট কুলিং ও স্বয়ংক্রিয় ফ্যান চালনার ব্যবস্থাও সংযুক্ত করা হয়েছে।
চরম গরমের সম্ভাবনায় হাজিদের সুরক্ষায় সৌদি প্রশাসন নানামুখী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহ আসির জানিয়েছেন, এবার ৫০ হাজারেরও বেশি চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্মী হজ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত রয়েছেন—এটি আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। গরমজনিত অসুস্থতা মোকাবেলায় ৭০০টির বেশি হাসপাতাল শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলোর প্রতিটিতে রয়েছে শীতলায়ন ফ্যান। তিনি জানান, এবার চিকিৎসা সক্ষমতা গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।