বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
পৃথিবীর সবচেয়ে গরম স্থানে ঠান্ডা থাকে কেন পবিত্র কাবা চত্বর?
অনলাইন ডেস্ক
পৃথিবীর সবচেয়ে গরম অঞ্চলের একটি, তবু পবিত্র কাবা চত্বরের মেঝে থাকে শীতল! কীভাবে সম্ভব? প্রযুক্তি, অলৌকিক কাকতাল এবং আল্লাহর অপার কৃপা—এই ত্র্যুটি মিলেই রচিত হয়েছে পবিত্র হারাম শরীফের এক অবিস্মরণীয় স্থাপত্য রহস্য।
মক্কা ও মদিনা—বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন। এখানে বছরের প্রতিটি দিন লাখো মুসলমানের পদচারণা। মরুর দেশ সৌদি আরবে গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ছাড়ায় ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবু বিস্ময়করভাবে, পবিত্র কাবা চত্বরের মেঝেতে খালি পায়েও হাঁটা যায়—তাপমাত্রা থাকে শীতল! এই জাদুকরী স্বস্তির রহস্য লুকিয়ে আছে বিশেষ এক মার্বেল পাথরে, ‘থাসোস মার্বেল’।
গ্রিসের ‘থাসোস’ নামের ছোট্ট এক পাহাড় থেকে সংগৃহীত এই সাদা স্ফটিক মার্বেল সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এবং নিচে থাকা কৃত্রিম পানির নালা দিয়ে ঠান্ডা রাখে মেঝে। ১৯৭৮ সালে বাদশাহ খালিদের নির্দেশে প্রথমবার এই মার্বেল ব্যবহার হয়। পাঁচ সেন্টিমিটার পুরু এই মার্বেলের গুণ হলো—রাতে আর্দ্রতা শুষে নেয়, আর দিনে সেই আর্দ্রতা ছেড়ে দিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের স্থপতি ছিলেন মিশরের কিংবদন্তি প্রকৌশলী ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল। পবিত্র মসজিদের তাওয়াফকারীদের আরামের কথা মাথায় রেখে তিনি এমন মার্বেল পাথরের খোঁজ শুরু করেন যা সূর্যর তাপে উত্তপ্ত হবে না। বহু অনুসন্ধানে এই মার্বেল পাওয়া যায় গ্রিসে। মার্বেলটি এতটাই দুষ্প্রাপ্য যে, এটির দাম প্রতি বর্গমিটার ২৫০ থেকে ৪০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত!
১৫ বছর পর যখন মদিনার মসজিদে নববির চত্বরেও একই মার্বেল লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়, তখন দেখা যায়, থাসোস পাহাড় থেকে আর পাওয়া যাচ্ছে না এই পাথর। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার ঘটে এরপর—এক সৌদি কোম্পানি ১৫ বছর আগেই কিনে রেখেছিল সেই মার্বেল, কিন্তু তা আজও ব্যবহৃত হয়নি।
এই অলৌকিক সংযোগ দেখে কামাল ইসমাইল কেঁদে ফেলেন, শিশুর মতো। তিনি ওই কোম্পানিকে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে একটি খালি চেক দেন, ইচ্ছামতো মূল্য বসিয়ে নিতে বলেন। কিন্তু কোম্পানির মালিক তা নিতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আল্লাহই আমাকে দিয়ে এই মার্বেল কিনিয়েছেন, আবার তিনিই আমায় এর কথা ভুলিয়ে দিয়েছেন। এটি তো রাসুল (সা.)-এর মসজিদের জন্যই নিয়ত ছিল।”
এই ঘটনা শুধু একটি স্থাপত্য কাহিনি নয়, বরং তাকওয়া, কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহর পরিকল্পনার এক অনন্য নিদর্শন।