সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন
ওষুধ খারাপ হলে যেমন শরীর খারাপ হয়, তেমনি আমল খারাপ হলে তার ফলাফলও ভালো হয় না। ইসলামে সালাম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান। সালামকে ব্যাপকভাবে প্রচলিত করার জন্য শরিয়ত নির্দেশ দিয়েছে। সালাম সঠিক, শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত। একবার গুলশানে একটি বয়ান দিচ্ছিলাম। সেদিন সেখানে অনেক র্যাব ও পুলিশ সদস্য উপস্থিত হয়েছিল। আমি তাদের বললাম, “এখানে তো কোনো মারামারি বা দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা ঘটেনি, তাহলে আপনারা কেন এসেছেন?” তারা বলল, “আমাদের স্যার আমাদের পাঠিয়েছেন আপনার বয়ান শোনার জন্য।” আমি তাদের উদ্দেশে বললাম, “তাহলে তো ভালোই হয়েছে, অন্তত সহিহভাবে সালাম দিতে শিখে যান।”
আমি তাদের আবার এক প্রশ্ন করলাম, “আপনারা যখন কোনো সন্ত্রাসী ধরতে যান, তখন কেন তারা আপনাদের আক্রমণ করে? কেন তারা আপনাদের মারতে চায়? আপনাদের কি তাদের কোনো ক্ষতি হয়েছে? নাকি পূর্ব শত্রুতা রয়েছে?” তারা কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারল না। শুধু বলল, “তারা সন্ত্রাসী, তাই তারা আমাদের মারতে চায়।”
তখন আমি বললাম, “আজ এমন একটি অস্ত্র সম্পর্কে জানুন, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সন্ত্রাসীও আপনাকে মারতে চাইবে না।” এরপর আমি তাদের কাছে একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। একবার আমি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে রাত ৩টায় ঢাকার দিকে রওনা দিলাম। স্থানীয়রা আমাকে এত রাতে বের হতে নিষেধ করেছিল, কারণ ওই রাস্তাঘাট রাতে নিরাপদ নয়। কিন্তু আমি বললাম, “আল্লাহ ভরসা।” গাড়ি চলতে চলতে হঠাৎ কিছু লোক টর্চলাইট দিয়ে আমাদের গাড়ি থামাতে বলল। ড্রাইভার বলল, “হুজুর, সামনে বিপৎসংকেত!” তারা আমাদের গাড়ি থামিয়ে সব কিছু নিয়ে চলে যেতে বলল। আমি ড্রাইভারকে বললাম, “গাড়ি ব্যাক কর, যদি সামনে যেতে পারি না।” ড্রাইভার বলল, “ব্যাক করলে তারা গুলি করবে।” এখন আমার মনে কী অবস্থা হয়েছিল! সন্ত্রাসীরা তো ভয় পায় না, কিন্তু আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম।
এমন সময়ে, আমি ভেবেছিলাম, “আজকাল মানুষ যখন বিপদে পড়ে, তখন আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, কারণ তিনি ছাড়া আর কারো কাছে আশ্রয় পাওয়া সম্ভব নয়।” কোরআনে এসেছে, যে কেউ যদি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়, আল্লাহ তাকে আশ্রয় দেন। যাদের কিছুই নেই, তারা গুলি খায় না, তাদের ঘরে ডাকাত প্রবেশ করে না। কারণ তাদের দেখলেই মনে মায়া জাগে।
এখানে আমার প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস মনে পড়ল, “যে সঠিকভাবে সালাম দেয়, তার শত্রু মিত্রে পরিণত হয়।” একদিন যদি কেউ তার শত্রুকে সালাম দেয়, তবে সেই শত্রু একসময় তার বন্ধু হয়ে যাবে। যেমন ইমাম সাহেব যদি আগে সালাম দেন, মুসল্লিরা তাকে খুব পছন্দ করবে।
যাই হোক, সেদিন আমার সাথে কয়েকজন ছিল। আমি ছিলাম সামনের সিটে, তারা পেছনের সিটে। আমি ড্রাইভারকে বললাম, “সামনে চল, যা হবে হবে, চিন্তা করে কোনো লাভ নেই।” আমরা সবাই ঠিক করলাম যে, যদি ডাকাতরা আমাদের গাড়ি থামায়, আমি প্রথমে উচ্চ আওয়াজে সালাম দেব, তারপর সবাই তা অনুসরণ করবে। যখন গাড়ি থামাল, ডাকাতরা আমাদের প্রশ্ন করল, “হুজুর, কোথা থেকে এসেছেন?” আমি বললাম, “বাজিতপুর থেকে এসেছি।” তখন তারা বিনয়ের সাথে বলল, “হুজুর, দয়া করে ক্ষমা করুন এবং আমাদের জন্য দোয়া করবেন।” আমি মনে মনে বললাম, “তোমরা তো কোনো অপরাধই করোনি, ক্ষমা কীসের?”