মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
অজু করার পর মোটা চামড়ার বা কাপড়ের মোজা পরিধান করলে, মুসাফির এক দিনের জন্য এবং মুকিম ব্যক্তি এক দিনের জন্য পা ধোয়ার পরিবর্তে মোজার ওপর মাসাহ করতে পারবেন। তবে শর্ত হল, মোজা পরিধান করার পর যদি তার অবস্থান পরিবর্তন না হয় বা মোজা খুলে না ফেলা হয়, তবে মাসাহ করা যাবে। এটি বিশেষত শীতকালীন বা যেকোনো পরিস্থিতিতে সুবিধার জন্য একটি অনুমতি।
অজু ভঙ্গ হলে, তার সাথে সাথে মাসাহও ভেঙে যাবে। আরো একটি শর্ত হল, যদি মোজা খুলে ফেলা হয়, তবে মাসাহ ভেঙে যাবে। এছাড়া যদি পায়ের অধিকাংশ অংশ মোজার বাইরে বের হয়ে যায়, তবে মাসাহ আর চলবে না। তবে যদি একটিতে বা উভয় মোজায় পানি পৌঁছায়, তাহলে মাসাহ ভেঙে যায়।
অজু করার পর পরবর্তী সময়ের মধ্যে যদি ওজু ভেঙে যায়, তবে তার ওপর মাসাহ করা যাবে, তবে যদি অজু না থাকে তখন সেই সময়ের মধ্যে মোজার ওপর মাসাহ করা যাবে না।
মোজা পরিধান করলে, ফরজ গোসলের সময় মোজা খুলতে হবে, কারণ গোসলে মোজার ওপর মাসাহ করা হলে গোসল হবে না।
প্রতিটি ধরনের মোজার ওপর মাসাহ জায়েজ নয়। চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ জায়েজ থাকে। সুতা বা পশমের মোজার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ হলে তা মঞ্জুর হবে:
১. মোজা এত মোটা এবং পুরু যে, শুধুমাত্র মোজা পরিধান করে তিন মাইল পর্যন্ত হাঁটা সম্ভব। এতে মোজা ফেটে যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
২. মোজা এমনভাবে পায়ে লেগে থাকে, যাতে কোনো কিছু দিয়ে বাঁধা ছাড়াই তা পরিধান করে চলাফেরা করা সম্ভব।
৩. মোজা এত মোটা যে, তা পানি শোষণ করে না এবং পানি ভেদ করে পায়ে পৌঁছাতে পারে না।
৪. মোজা পরিধান করার পর, এর ভেতরের অংশ বাইরে থেকে দৃশ্যমান হয় না।
এমনকি আমাদের দেশে ব্যবহৃত সুতা, নাইলন বা উলের মোজার উপর মাসাহ জায়েজ হবে না, কারণ এসব মোজার শর্ত পূর্ণ হয় না। এ ধরনের মোজা খুব সহজে পানি শোষণ করে এবং পানি পায়ে পৌঁছাতে দেয়। এগুলো দিয়ে দীর্ঘ পথ হাঁটাও সম্ভব হয় না।