রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
সাদিকা জাহান
অফিসে বসে কাজ করতে করতে অনেকেই টের পান, পিঠ-কোমর-কাঁধে এক অস্বস্তিকর ব্যথা বাসা বাঁধছে। দিনের বেশির ভাগ সময় ডেস্কে বসে কাটানোর ফলে নড়াচড়া করার সুযোগ কমে যায়। লাঞ্চ ব্রেক বা টয়লেট যাওয়া ছাড়া ওঠার তেমন সময় মেলে না। ফলে পেশিতে চাপ পড়তে থাকে, রাতে শুয়েও আরাম মেলে না, উল্টে যন্ত্রণায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটানা বসে থাকার অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রেই এই ব্যথা ক্রমে দীর্ঘমেয়াদি হয়ে যায়, যা ওষুধেও সহজে কমতে চায় না। তবে নিয়মিত কিছু অভ্যাস রপ্ত করতে পারলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নিই সেসব কৌশল—
কাজের চাপে শরীরচর্চা এড়িয়ে গেলে চলবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করলে পিঠ ও কোমরের ব্যথা অনেকটাই কমে। তাই সময় বের করে ব্যায়াম করা জরুরি।
অফিসের ব্যস্ততার মাঝেও বিরতি নেওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত পাঁচ মিনিট হাঁটুন। এতে শুধু ব্যথাই কমবে না, চোখ ও মস্তিষ্কও বিশ্রাম পাবে। হাঁটার সুযোগ না থাকলে চেয়ারে বসেই স্ট্রেচিং করুন, এতে কিছুটা হলেও আরাম পাবেন।
এক জায়গায় বসে কাজ করলে ব্যথা এড়াতে সঠিক ভঙ্গিতে বসতে হবে। শুধু অফিসে নয়, বাড়িতেও বসা ও শোয়ার অভ্যাস ঠিক রাখা দরকার। ভুল ভঙ্গিতে বসা বা শোয়া থেকেও কোমরে চাপ পড়তে পারে। তাই কাজের সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখা জরুরি।
গবেষণা বলছে, মানসিক চাপও শরীরের ব্যথা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। মন ভালো রাখার চেষ্টা করুন, চাপ কমান।
ঘুমের অভাবও পিঠ ও কোমরের ব্যথা বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে পেশিগুলো ঠিকভাবে শিথিল হতে পারে না, ফলে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে। তাই সুস্থ শরীরের জন্য প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি।