রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
সাদিকা জাহান
খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস গ্রামীণ জনপদে সাধারণ হলেও, শহুরে জীবনে এটি প্রায় অকল্পনীয়। শহরের ইট-কংক্রিটের মাটিতে হাঁটাও কঠিন, ফলে অনেকে ঘরের ভেতরেও জুতা পরে থাকেন। অথচ শিশিরস্নাত ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটার স্বাস্থ্যকর দিকগুলো অনেকেরই অজানা।
প্রতিদিন খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস অনিদ্রা ও মানসিক চাপ কমায়, পাশাপাশি শরীরের আরও নানা উপকার সাধন করে। কীভাবে এটি শরীর ও মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, চলুন জেনে নিই—
খালি পায়ে হাঁটার ফলে পায়ের মাধ্যমে শরীর সরাসরি মাটির সংস্পর্শে আসে। মাটি দেহ থেকে অতিরিক্ত নেগেটিভ ইলেকট্রন শোষণ করে, যা শরীরের ইলেকট্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এটি মানসিক স্থিতি তৈরি করে ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়।
মানবদেহের প্রায় ৭০ শতাংশই জলীয় উপাদানে গঠিত। খালি পায়ে হাঁটার ফলে মাটির সংযোগ শরীরে একধরনের শক্তি সঞ্চার করে, যা কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করে এবং দেহকে শিথিল করে।
শরীরচর্চা বা ভারী পরিশ্রমের পর অনেক সময় পেশিতে টান লাগে কিংবা ব্যথা হয়। গবেষণা বলছে, খালি পায়ে হাঁটলে ব্যথা কমে আসে। নিয়মিত জুতা পরার ফলে পায়ের স্বাভাবিক কাঠামো ব্যাহত হয়, যা কোমর, হাঁটু ও গোড়ালির ব্যথার কারণ হতে পারে। খালি পায়ে হাঁটার ফলে পায়ের পাতা ও পেশি স্বাভাবিক অবস্থায় শক্তিশালী হয়।
গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, যারা নিয়মিত খালি পায়ে হাঁটেন, তাদের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগের পরিমাণ কম থাকে। মাটির সংস্পর্শ শরীরে আরামদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা গভীর ও শান্তিময় ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
নানা ধরনের ক্ষতিকর রশ্মি মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়াতে পারে। খালি পায়ে হাঁটার ফলে শরীরের চারপাশের বৈদ্যুতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে, যা মাইগ্রেনজনিত যন্ত্রণা উপশমে সহায়ক হতে পারে।
খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস রক্তের শ্বেতকণিকার পরিমাণ কমিয়ে লোহিত কণিকা বাড়াতে সহায়তা করে। এর ফলে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা কমে যায়, যা হার্টের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন একটু সময় শিশিরভেজা ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস করলে শরীর ও মন উভয়েরই উপকার হতে পারে। আপনি কি আজই চেষ্টা করবেন?