রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
এক ছাদের নিচে দেশি ফ্যাশনের শত রঙ—জুড়ে আছে গল্প, গন্ধ আর গর্ব
অনলাইন ডেস্ক
আজকের ভোক্তা কেবল পণ্য কেনেন না, কেনেন তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গল্প, গন্ধ আর গর্ব। আর সেই স্বাদটাই এখন মিলছে এক ছাদের নিচে—নানা দেশি ব্র্যান্ডের গুচ্ছ-ঘরগুলোতে। শহরের ব্যস্ত ভিড়ে একাধিক গন্তব্যে না ছুটেও পছন্দের ব্র্যান্ডে কেনাকাটার এই চমৎকার ব্যবস্থা দিনকে দিন হয়ে উঠছে ক্রেতা ও উদ্যোক্তা—উভয়ের জন্যই নির্ভরতার নাম।
দেশীয় ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও হস্তশিল্প নিয়ে যেসব প্ল্যাটফর্ম একই ছাদের নিচে নানা ধরনের ব্র্যান্ডের সম্ভার সাজিয়েছে, তার মধ্যে ‘দেশীদশ’ আর ‘গো দেশি’ এখন অনুপ্রেরণার নাম।
২০০৯ সালে শুরু হওয়া ‘দেশীদশ’ ছিল এক সাহসী চিন্তার ফসল—একই ছাদের নিচে রাখা হয় দশটি স্বতন্ত্র দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড। রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জন’স, সাদাকালো, বাংলার মেলা, বিবিয়ানা, দেশাল, কে ক্র্যাফট, নিপুণ, সৃষ্টি এবং নগরদোলা—সবগুলোই আলাদা, অথচ একই মৌলিক দর্শনে বিশ্বাসী।
দেশীয় ঐতিহ্য আর আধুনিক ডিজাইনের যুগলবন্দি ফুটে উঠেছে প্রতিটি ব্র্যান্ডে। এ যেন দশজনের একটি ক্লাস, যেখানে সবাই প্রথম হতে চায়, কিন্তু একই সময়ের মধ্যে পরস্পরকে অনুপ্রাণিতও করে।
রঙ বাংলাদেশের মার্কেটিং ম্যানেজার প্রিতম পল্লব বলেন, “দেশীদশ আমাদের জন্য শুধু বাজার নয়, একটা অসাধারণ মঞ্চ।”
দেশালের পারশা রফিক মনে করেন, “দেশীয় ফ্যাশনের ব্র্যান্ডগুলোকে এক জায়গায় তুলে ধরার এমন মঞ্চ ফিউশন ফ্যাশনের প্রচারে মুখ্য ভূমিকা রাখে।”
দেশীদশ শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, এটি উৎসব, পার্বণ আর দেশজ ঐতিহ্য উদ্যাপনের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র।
২০২১ সালের মার্চে সামাজিক মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও ‘গো দেশি’ খুব দ্রুতই একটি ভিন্ন ধাঁচের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। এক বছর পর ২০২২ সালের মার্চে যখন বনানীতে এর শোরুম খোলে, তখন সেখানে ছিল ৫৫টি ব্র্যান্ড। আজ সেই সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ৭১-এ।
এখানে আছে পরিচিত নাম, আবার একেবারে নতুন উদ্যোক্তাও। আছে পোশাক, ব্যাগ, গয়না, হোম ডেকর, জুতা—সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ দেশীয় লাইফস্টাইল এক্সপেরিয়েন্স।
প্রতিষ্ঠাতা সাবেরা আনোয়ার বলেন, “আমরা শুধু পণ্য নয়, মানুষকে উৎসাহ দিই গল্প বলায়। উদ্যোক্তার স্বপ্নও এখানে বিক্রি হয়।”
গো দেশির ব্র্যান্ড তালিকা যেন এক শিল্পকাহিনি—রিং দা বেল, চৌধুরী’স, গজমতি, পাতার গল্প, শিল্পলোক, মুমু মারিয়া, লীলাবালি, বায়োস্কোপ, বাগডুম, মেকারস মার্কেটসহ অসংখ্য নাম। কেউ তৈরি করছেন তাঁতঘরের শাড়ি, কেউ ছুঁয়ে দেখাচ্ছেন কাঠ, পাথর, ধাতব অলঙ্কারের জাদু।
১. টাইম সেভিং—এক জায়গায় সব পছন্দের ব্র্যান্ড
২. সাপোর্টিভ ইকোসিস্টেম—ব্র্যান্ডগুলো একে অপরকে সহায়তা করে
৩. নতুনদের সুযোগ—অনলাইন বিক্রেতারাও ফিজিকাল স্টোরে জায়গা পান
৪. উৎসবভিত্তিক প্রচারণা—ঈদ, পূজা বা বৈশাখে বিশেষ আয়োজন
৫. গল্পভিত্তিক মার্কেটিং—প্রতিটি পণ্যের পেছনে থাকে একটি গল্প
দেশীয় ফ্যাশনের এই গুচ্ছ-বাজারগুলো কেবল কেনাকাটার জায়গা নয়, এটি একধরনের সাংস্কৃতিক আন্দোলনও। যেখানে উদ্যোক্তারা শুধু ব্র্যান্ড গড়েন না, সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষা করেন।
দেশীদশ ও গো দেশি এখন শুধু দোকান নয়, তারা হয়ে উঠেছে দেশি আত্মপরিচয়ের স্টাইলিশ এক্সপ্রেশন।
তাই এই উৎসব মৌসুমে, যদি খুঁজে থাকেন দেশি ঘরানার অনন্য কিছু—তাহলে এক ছাদের নিচে চলে যান, যেখানে গল্প আর গর্ব মিশে আছে প্রতিটি ডিজাইনে।