রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন
ট্রেনে উঠব বলে ছুটছি, অথচ পৌঁছে গেলাম সিরামিকের রাজ্যে—চেরাগ আলী মার্কেট!
অনলাইন ডেস্ক
অফিস শেষ, মেট্রোরেলের দিকে দৌড়। সহকর্মী রবিউলের বাইকে চেপে যাচ্ছি উত্তরা উত্তর স্টেশনের পথে। টার্গেট একটাই—টঙ্গীর চেরাগ আলী মার্কেট, যেটি দেশের সবচেয়ে বড় সিরামিক ক্রোকারিজের পাইকারি ও খুচরা বাজার। পথে ইজতেমার জ্যামে বাস আটকে গেলেও অটোরিকশায় গলি গলি ঘুরে ঠিকই পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে।
বাইরে থেকে বুঝতেই পারবেন না—বাজার আসলেই কোথায়। আগারগাঁও থেকে সাহাজ উদ্দিন সরকার আদর্শ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশের গলি ধরে ঢুকেই বাঁয়ে আকতার গিফট কর্নার। তার পরেই ১০ নম্বর ফটক। এই ফটক পেরোতেই যেন ঢুকে পড়লাম সিরামিকের এক বিশাল জাদুঘরে—নাম ‘শের-ই-বাংলা সিরামিক মার্কেট’। ১৯৬৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই বাজারে এখন পাঁচ শতাধিক দোকান।
বাজারে প্রবেশ করতেই চোখ ঝলসে যাওয়ার জোগাড়! চারপাশজুড়ে শুধু সিরামিকের সমাহার। মেঝেতে স্তরে স্তরে, আবার দেয়ালে তাকভর্তি কাপ-পিরিচ, জগ, বাটি, প্লেট আর ট্রে। ক্রেতাদের কেউ ঘুরে ঘুরে কিনছেন, কেউ অর্ডার দিয়ে যাচ্ছেন, কেউবা প্যাকেট করে গাড়ির অপেক্ষায়।
কুমিল্লা চান্দিনা থেকে আসা ১৭ জন নারীর দল—মায়া রানী, মিনারা, রানু, মোমিনা—৩৫ বছর ধরে এই বাজার থেকে পণ্য কিনে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করেন। জিজ্ঞেস করতেই হাসিমুখে বলেন, “লাভ তেমন নাই, কোনরম খাইয়া বাইচ্চা হমান হমান!”
পণ্যের বাহারি রূপ—আকাশি, সাদা, সবুজ, খয়েরি, এমনকি ইমোজির আদলেও সিরামিক! মাছ, ফুল, পাতার গড়নে পাত্র। ছোট বড় সবরকম আকার। যা যা আছে তার তালিকা করাই কঠিন। কাপ-পিরিচ, কফি মগ, তরকারির বাটি, পিৎজা প্লেট, ফিরনি বাটি, দুধ-চিনি রাখার পট, ট্রে—সবই এখানে।
দামে কী মিলছে? কাপ ১৫০–২৫০ টাকা, চা সেট ৬০০–১২০০ টাকা, প্লেটের ডজন ২১০০–৪০০০ টাকা, বাটির সেট ৬০০–১৪০০ টাকা। পিৎজা প্লেট ৮০০, স্যান্ডউইচ প্লেট ১৭৫, কেটলি-চিনি-পটের সেট ১২৫০–১৮৫০ টাকা। ডিনার সেট ৩৫০০ থেকে শুরু করে ৪০৫০০ টাকাও পর্যন্ত!
মক্কা ক্রোকারিজে মিলছে কাস্টম ফরমাশে বানানো গিফট পণ্য। লোগো, ছবি, বার্তা ছাপিয়ে নিতে পারেন মগ বা স্মারক প্লেটে। বড় অর্ডারে খরচও কম।
চেরাগ আলীর এই বাজার শুধু পণ্য নয়, যেন প্রতিটি দোকানেই গল্প। এবং প্রতিটি গল্পে—সিরামিকের ঘ্রাণ!