রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
“সোনার মোহে যাঁরা চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেন, তাঁদের জন্য সতর্কবার্তা!”
অনলাইন ডেস্ক
সোনার প্রতি নারীদের আকর্ষণ চিরন্তন। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ এ ধাতুর প্রতি ছিল মুগ্ধ। কারণ, এটি শুধু চকচকে সৌন্দর্যের আধার নয়, বরং এর অপরিবর্তনীয় গুণাগুণ, স্থায়িত্ব এবং লেনদেনের সহজ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের যোগ্যতাও একে করেছে অতুলনীয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রতি বছর সোনার দামে ওঠানামা হলেও এর বাজারে উৎসাহ কমে না। অনেকেই একে ভবিষ্যতের সঞ্চয় বা অলংকার হিসেবে সংরক্ষণ করেন। তবে এর পাশাপাশি প্রতারণার ঘটনাও ঘটে—বিশেষত কম মূল্যে সোনা কেনার লোভে পড়ে অনেকেই কষ্টিপাথর কিংবা বিভিন্ন প্রতারণামূলক উপায়ে নকল সোনায় ঠকে যান। তাই খাঁটি সোনা চিনতে জানা প্রয়োজন কিছু কার্যকর কৌশল।
প্রথমেই জানা দরকার, সোনা মাপা হয় ক্যারেট অনুযায়ী। মূলত ১০, ১৪, ১৮, ২২ এবং ২৪ ক্যারেটের সোনা বাজারে প্রচলিত। বাংলাদেশে সাধারণত ১৮-২৪ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হয়। খাঁটি সোনা যাচাইয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হচ্ছে হলমার্ক চিহ্ন। এটি সাধারণত গয়নার ভিতরের দিকে থাকে এবং এতে সোনার ক্যারেটের নম্বর লেখা থাকে। নম্বর যত বেশি, মান তত ভালো।
আরও একটি কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে নাইট্রিক অ্যাসিড পরীক্ষা। এ অ্যাসিড অধিকাংশ ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করলেও সোনার সঙ্গে করে না। ছোট একটি নমুনা ঘষে তাতে কয়েক ফোঁটা অ্যাসিড ফেললে, যদি রঙ না বদলায়—তবে বুঝতে হবে এটি খাঁটি সোনা।
সোনা খাঁটি কি না তা পানি দিয়েও পরীক্ষা করা যায়। একটি বড় পাত্রে পানি নিয়ে গহনা ফেলে দিন—ভাসলে তা নকল; কারণ খাঁটি সোনা দ্রুত ডুবে যায়।
চুম্বকের মাধ্যমেও সোনা পরীক্ষা করা সম্ভব। শক্তিশালী চুম্বকে আকৃষ্ট হলে বুঝবেন সোনা খাঁটি নয়। কারণ খাঁটি সোনা কখনো চুম্বকে আকৃষ্ট হয় না।
সিরামিক প্লেটের পরীক্ষাও কার্যকর। একটি প্লেটের ওপর গয়না ঘষলে যদি কালো দাগ পড়ে—তবে তা খাঁটি নয়। আসল সোনা ঘষলে কোনো দাগ পড়ে না।
এই কৌশলগুলো জানলে আর কেউ ঠকাতে পারবে না আপনাকে। সোনার আসল রূপ চিনে নিন নিজেই, প্রতারণা থেকে থাকুন নিরাপদ।