মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
সাত কলেজের দীর্ঘ সমস্যার সমাধানে নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব শুরু!
অনলাইন ডেস্ক
অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন পেল রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজ। স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পথযাত্রায় এগিয়ে থাকা এই সাত কলেজের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।
রোববার (১৮ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭ কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে পরবর্তী কার্যক্রমে গতি আনার লক্ষ্যে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াসকে তার মূল দায়িত্বের পাশাপাশি প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।
এছাড়া, তিনি প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের সময় বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা পাবেন এবং তার অধ্যক্ষ হিসেবে চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া কিংবা সরকারের অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই দায়িত্ব বহাল থাকবে।
সাবেক সমন্বয়কই হলেন প্রশাসক—তাই মিলতে পারে পূর্ব অভিজ্ঞতার সুফল
অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস ইতিপূর্বে শুধু ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষই ছিলেন না, বরং সাত কলেজের সমন্বয়কের দায়িত্বও দক্ষভাবে পালন করেছেন। ফলে সাত কলেজের প্রশাসনিক কাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থার জটিলতা সম্পর্কে তিনি ভালোভাবেই অবগত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে প্রশাসকের পদে নিয়োগের পেছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের মাধ্যমে সাত কলেজের যাত্রা হলেও, টেকসই কাঠামো গঠনে এখন প্রয়োজন একটি সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ। প্রশাসক হিসেবে অধ্যাপক ইলিয়াসের নেতৃত্বে এই পথচলা গতিশীল হবে বলেই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এর আগে, গতকাল রোববার (১৮ মে) সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারার আওতায় অধ্যাপক ইলিয়াসকে ফের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে। অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) স্থগিত রেখে এবং অন্য কোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের শর্তে তিনি আগামী দুই বছর এই দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রশাসক নিয়োগে নতুন গতি পাচ্ছে আটকে থাকা কার্যক্রম
সাত কলেজকে ঘিরে গঠিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র কার্যক্রম দীর্ঘদিন থমকে ছিল প্রশাসক না থাকার কারণে। ফলে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা, বাজেট পরিকল্পনা, একাডেমিক ক্যালেন্ডারসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা সাত কলেজের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। তারা এখন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। নতুন প্রশাসক খুব শিগগিরই ভর্তি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নির্দেশনা দেবেন। তবে সামগ্রিক বিষয়টি ইউজিসি মনিটর করবে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তকে তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের বড় সফলতা হিসেবে দেখছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ অধ্যাদেশ এবং কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন স্থগিত রাখলেও তদারকি চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মো. আব্দুর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যে দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করেছি, তার প্রথম বড় অগ্রগতি হলো প্রশাসক নিয়োগ। তবে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যাদেশ ও রূপরেখা প্রকাশের দাবি এখন আরও জোরালোভাবে জানাচ্ছি।