মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
ইন্টারনেট সস্তা, নিরাপদ ও নারীবান্ধব করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ!
অনলাইন ডেস্ক
নতুন মাত্রায় ইন্টারনেট বিপ্লবের ঘোষণা দিয়েছেন এলজিআরডি ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানিয়েছেন, ইন্টারনেটের দাম কমাতে আইআইজি ও এনটিটিএন পর্যায়ে মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। আগামী দু-এক মাসের মধ্যেই এর সুফল ভোক্তারা হাতে হাতে পাবেন।
শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর বিটিআরসি ভবনে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ইন্টারনেটকে জনগণের আয়ত্তে আনতে এর দাম আরও কমাতে হবে। শিক্ষায় ইন্টারনেট ব্যবহারে অগ্রগতি থাকলেও, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে এখনও অনেক পিছিয়ে আছি। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডিজিটাল সংযুক্তি নিশ্চিত করতেই হবে।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। তখন আমরা জানতেই পারিনি কী ঘটেছে। পরে ইন্টারনেটের বদৌলতে সেই সত্য উঠে আসে। এ কারণেই ইন্টারনেটকে নাগরিক অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করা হয়েছে—এটা সরকারের বড় সাফল্য।”
তরুণদের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অনেক প্রতিভাবান দেশি উদ্ভাবক সুযোগের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন উদ্ভাবনের কথা শুনি, কিন্তু সেখানে আমাদের অবদান কতটা, সেটি ভেবে দেখা দরকার। থ্রিজি, ফোরজি এমনকি ফাইভজি ক্ষেত্রেও আমাদের অবদান প্রশ্নবিদ্ধ।”
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ পাস হলে নারীদের জন্য অনলাইন স্পেস আরও সুরক্ষিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, “সাইবার স্পেসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। আমরা স্বীকার করি—এই জায়গায় এখনও আমরা ব্যর্থ। তবে সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে আইনগত পদক্ষেপ জরুরি।”
বন্যা ও ঝড়ের সময় মোবাইল ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও, দুর্যোগে ইন্টারনেট সেবা চালু রাখতে বিকল্প পরিকল্পনা দরকার। টেলিযোগাযোগ যেন তখনও সচল থাকে, সেই উদ্যোগে আর দেরি করা যাবে না।”
অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, “আইসিটি খাতে নারীদের সম্পৃক্ত করতে সরকার জোরালোভাবে কাজ করছে। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনটি কিছুদিনের মধ্যেই পাস হবে। তখন নারীরা সাইবার জগতে আরও নিরাপদ বোধ করবেন। ন্যাশনাল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ও সবুজ পাতা উদ্যোগেও নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।”
‘ডিজিটাল রূপান্তরে নারী-পুরুষ সমতায়ন’ প্রতিপাদ্যে সারা দেশে পালিত হয় বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস। দিনব্যাপী মেলা, সেমিনার, ডাকটিকিট উন্মোচন ও হ্যাকাথনের আয়োজন করে বিটিআরসি। পুরো বিটিআরসি ভবন সাজানো হয় রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুনে।
অনুষ্ঠানে বিটিআরসি জানায়, তারা ইতোমধ্যে ই-লাইসেন্সিং সেবা চালু করেছে। এক ন্যাশনাল আইএসপি ও এক ডিভিশনাল আইএসপির হাতে তুলে দেওয়া হয় ই-লাইসেন্স। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয় সেরা পারফর্মারদের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, বিটিআরসি চেয়ারম্যান (অব.) মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারী, আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।