মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
আওয়ামী লীগের নাম নেওয়াও এখন আইনের চোখে অপরাধ!
অনলাইন ডেস্ক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ নামে এক বিস্ফোরক গেজেট প্রকাশ করেছে, যার ফলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গণপ্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারা ২০-এর (খ) উপধারা (১)-এর দফা (ঙ)-তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘যে কোনো সত্তা কর্তৃক কিংবা তার পক্ষে বা সমর্থনে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ছাপা, কিংবা অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অথবা যেকোনো গণমাধ্যমে প্রচারণা; এমনকি মিছিল, সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন বা জনসভায় বক্তৃতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’
অর্থাৎ, এই নতুন আইনের আওতায় আওয়ামী লীগ এবং তাদের হয়ে বা পক্ষে যেকোনো প্রচারমূলক কার্যক্রম, মিডিয়া কাভারেজ, জনসমাবেশ বা বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে আইনবিরোধী হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রখ্যাত আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানিয়েছেন, অধ্যাদেশটিতে ‘সত্তা’ শব্দটি থাকলেও, এখানে মূলত রাজনৈতিক দলকেই বোঝানো হয়েছে। তার ব্যাখ্যায়, ‘সত্তা’ মানে ইংরেজিতে entity, এবং রাজনৈতিক দল একটি স্বতন্ত্র entity হিসেবে গণ্য হয়। ফলে, একটি entity নিষিদ্ধ করার যে বিধান আইনটির ১৮ ধারায় আগে থেকেই ছিল, সেটিকেই নতুনভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পূর্ববর্তী আইনে দলীয় অফিস বন্ধ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কথা থাকলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিষয়ে এতটা স্পষ্টতা ছিল না। কিন্তু সংশোধিত অধ্যাদেশে তা নির্দ্বিধায় সংযুক্ত করা হয়েছে—যেখানে এমনকি দলটির সমর্থনে সংবাদ পরিবেশন করাও আইনগত অপরাধ।
জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার ভাষায়, “যেহেতু এখন তাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এর মানে দাঁড়ায়—আওয়ামী লীগ সম্পর্কিত কোনো সংবাদ, বিবৃতি বা প্রচারণা গণমাধ্যমে প্রকাশ করাও বেআইনি হয়ে গেছে।”
তিনি আরও জানান, এই সংশোধিত অধ্যাদেশ শুধু রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
আইনের ধারা ৯-এর (৩) উপধারায় ইতোমধ্যে বলা ছিল—টিভি, প্রিন্ট বা প্রচারমাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত সত্তার পক্ষে সংবাদ প্রকাশ আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। নতুন সংশোধনে তা আরও স্পষ্ট এবং কঠোরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যার শাস্তি হিসেবে থাকছে ন্যূনতম ২ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড, সঙ্গে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও।