মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন
চার দেশ, এক পরিকল্পনা—আঞ্চলিক উন্নয়নে নতুন বিপ্লব!
অনলাইন ডেস্ক
নেপাল, ভুটান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এক বিস্তত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, জলবিদ্যুৎ, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে চার দেশের সীমান্ত অতিক্রম করে বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্ভব—যা এই অঞ্চলের ভবিষ্যত উন্নয়নের চালিকাশক্তি হতে পারে।
ঢাকায় নেপাল দূতাবাস আয়োজিত এক ঘরোয়া আয়োজনে অংশ নিতে আসা নেপালের ফেডারেল পার্লামেন্টের প্রতিনিধি পরিষদের ডেপুটি স্পিকার ইন্দিরা রানা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এ দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আলাদা চেষ্টা নয়, একত্রিত হয়ে আমাদের এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি যুগোপযোগী অর্থনৈতিক কৌশল দরকার।” তিনি আঞ্চলিক পরিকাঠামো ও জ্বালানিতে যৌথ বিনিয়োগকে সামনে রেখে বহুমুখী উদ্যোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার জলবিদ্যুৎ সহযোগিতা। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে ভারতের ট্রান্সমিশন লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে নেপালের ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানির সফল বাস্তবায়ন একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বলে উভয় পক্ষ উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে এই খাতে আরও সহযোগিতার বিষয়ে তারা একমত পোষণ করেন।
আঞ্চলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “রংপুরে নির্মাণাধীন আধুনিক এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নেপাল ও ভুটানের রোগীদের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে। স্বাস্থ্যসেবা আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি মানবিক মেলবন্ধন।”
ডেপুটি স্পিকার ইন্দিরা রানা বলেন, “নেপাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতায় বিশ্বাসী। আমরা শুধু সরকারের সঙ্গে নয়, জনগণের স্তরেও সম্পর্ক দৃঢ় করতে চাই।” তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ৭০০ নেপালি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে, যা শিক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রতিচ্ছবি।
দুই দেশের মধ্যে অবকাঠামোগত সংযোগ, বিশেষত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও তারা আলাপ করেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “নেপালের সঙ্গে কার্যকর সড়ক নেটওয়ার্ক আঞ্চলিক বাণিজ্যের খরচ কমাবে এবং জনগণের চলাচল হবে আরও সাবলীল।”
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ইসরাত জাহান।