মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
শাহবাগে ফাঁসিকৃত হাসিনা, জাগ্রত জুলাইর দাহক আওয়াজ!
অনলাইন ডেস্ক
শনিবার (১০ মে) রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে এক বিস্ফোরক দৃশ্যের অবতারণা করল ‘জাগ্রত জুলাই’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। জাতীয় জাদুঘরের সামনের জনসমাগমপূর্ণ চত্বরে একটি গাড়ির ওপর তারা ঝুলিয়ে দেয় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ফাঁসিকৃত প্রতিকৃতি, যা মুহূর্তেই ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। প্রতিকৃতির সঙ্গে টাঙানো হয় একের পর এক আগুনঝরা পোস্টার, যেখানে লেখা ছিল প্রতিবাদের অগ্নিঝরা স্লোগান—‘লাল জুলাইয়ের চেতনা, মলিন হতে দিব না’, ‘ডাইনি বুড়ির বাহিনী, করিস না আর কাহিনি’, এবং সবচেয়ে জোরালো স্লোগান, ‘আওয়াজ তোলো- তোলো রব, আগে বিচার পরে সব’। এসব লেখার মধ্য দিয়ে যেন ফুটে উঠছিল এক আক্রোশময়, ধ্বংসাত্মক প্রতিজ্ঞার চিত্র, যা সরাসরি সরকার এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
‘জাগ্রত জুলাই’ প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। তাদের দাবিগুলো হলো—প্রথমত, আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে; দ্বিতীয়ত, ‘জুলাই বিপ্লব’-এর সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে; এবং তৃতীয়ত, ‘জুলাই গণহত্যা’, ‘শাপলা গণহত্যা’সহ আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সব অন্ধকার অধ্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
প্রদর্শনীর আয়োজনের ধরন ও বক্তব্যের প্রখরতা দেখে সাধারণ মানুষ এবং পথচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ হতবাক হয়ে থেমে যায়, কেউ আবার মোবাইলে ভিডিও করতে থাকে। শাহবাগের বাতাসে এক অস্থিরতার স্পন্দন ছড়িয়ে পড়ে। দৃশ্যত এটি কেবল একটি বিক্ষোভ নয়, বরং সরকারের বিরুদ্ধে জাগ্রত বিক্ষোভের এক রূপান্তরিত চেহারা, যা বড় কোনো রাজনৈতিক কাঁপুনি ডেকে আনতে পারে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
এই প্রতিবাদ ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে ‘জাগ্রত জুলাই’ শুধুমাত্র স্লোগানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের আন্দোলনকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাইছে—যেখানে কথার চেয়ে প্রতীকি প্রতিবাদ অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। শাহবাগের সেই বিক্ষোভ সরাসরি বার্তা দিচ্ছে, এই প্ল্যাটফর্ম সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।