মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
গয়েশ্বরের হুঁশিয়ারি: জনগণই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবে!
অনলাইন ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আজ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছেন। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে তিনি কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘‘আজ যারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন, কয়েকদিন পর তারাই যে বিএনপিকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়?’’ তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন এবং জনগণের শক্তিই ঠিক করবে কারা গ্রহণযোগ্য আর কারা জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত বা একেবারে বিলীন হয়ে যাবে।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি। সমাবেশের লক্ষ্য ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলা। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তৃতায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে ক্ষোভ, অনিশ্চয়তা এবং রাজনীতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা জটিল কূটকৌশলের ইঙ্গিত।
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। আসল সমস্যা মানুষের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে। এক সময়ের প্রভাবশালী মুসলিম লীগ, যারা পাকিস্তান সৃষ্টির মূল কারিগর ছিল, আজ তাদের অস্তিত্ব ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ। জাসদও এক সময়ে বড় শক্তি ছিল, কিন্তু আজ তারা বিভক্ত ও দুর্বল। ভাসানী এবং কাজী জাফরের ইউপিপিও একইভাবে ইতিহাসের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে। যারা জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তারা ইতিহাসের নিয়মেই এক সময় বিলীন হয়ে যায়।’’
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘‘যদি আওয়ামী লীগ দেশের জন্য ও গণতন্ত্রের জন্য বিষ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে জনগণই তাদের শেষ কথা বলে দেবে। কোনো দলকে আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন নেই, জনগণের রায়ই চূড়ান্ত।’’
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গেও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরাসরি বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত ইসলামী এখনো তাদের নিবন্ধন ফিরে পায়নি, কিন্তু সরকার এখনও তাদের নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ করছে। জামায়াত কীভাবে নিষিদ্ধ হলো? আর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে তা দাবি তোলার প্রয়োজনটাই বা কেন? এসবের আড়ালে যে রাজনীতি চলছে তা সবাই বুঝে।’’
বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের পেছনের অদৃশ্য শক্তির কথা তুলেও গয়েশ্বর বলেন, ‘‘আজ এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নাটাই কারা টানছে? যারা এই দেশে ১/১১ ঘটিয়েছিল, তারাই এখনো অদৃশ্যভাবে এই সরকার চালাচ্ছে।’’ তার এই মন্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা রাজনীতির অস্থিরতাকে আরও উস্কে দেয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশত্যাগ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘দুইবারের প্রেসিডেন্ট হামিদ চলে গেলেন। কোনো সংস্থা জানে না যে তিনি বিদেশ যাচ্ছেন? যখন তিনি ইমিগ্রেশন পার হলেন, তখনও সরকার কিছু জানত না—এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? সরকারের অনুমতি ছাড়া কি সম্ভব? আসলে সরকার কয়টা? ইউনূস সরকার, ছাত্রদের সরকার—কোনটি?’’
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সরকারের নীরবতাকে আক্রমণ করে বলেন, ‘‘জনগণ যখন রাখাইন ইস্যুতে উত্তেজিত হয়ে উঠেছে, তখন সরকার চুপ করে বসে আছে। তারা এখনও একবারও প্রকাশ্যে বলেনি যে তারা কী করছে।’’
তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সরকারের কাছ থেকে আমরা স্পষ্ট করে শুনতে চাই—তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই। আপনারা তো অন্য কাউকে বিদেশ থেকে এনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দিয়েছেন। তাহলে তারেক রহমানের ক্ষেত্রে এতো জটিলতা কেন? নিরাপত্তা কোনো বড় কারণ নয়। এর পেছনে অন্য অজানা কারণ আছে, তা জাতি জানতে চায়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘যে মানুষটি বিদেশে বসে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, ফ্যাসিস্ট শাসক হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ভোটের অধিকার রক্ষায় লড়াই করছেন, তার দেশে ফেরা আটকানোর কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। জাতি এর ব্যাখ্যা চায়।’’
সভায় সভাপতিত্ব করেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। আরও উপস্থিত ছিলেন জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা, মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম, কৃষকদলের জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা। তারা সবাই একযোগে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পক্ষে সুর তুলেছেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন। সমাবেশ শেষে জনতার মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা যেন আরও তুঙ্গে পৌঁছে যায়, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ঢেউ তুলতে পারে।