বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক ,
৭২ বছর বয়সে যদি ‘সেফ এক্সিট’-এর কথা ভাবতে হয়, তা হবে জীবনের এক গভীর বেদনা — এমন আবেগঘন মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুকে ‘উপদেষ্টার রোজনামচা, চালকের হেলমেট নাই, ও সেফ এক্সিট’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা ও নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ভোরে ট্রেনে ভৈরব যাওয়ার সময় কমলাপুর স্টেশন ঘুরে দেখেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর আশুগঞ্জ স্টেশনের বেহাল দশা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। স্থানীয় মানুষজনের দাবি, স্টেশনটি আগের মতো বি-শ্রেণির মর্যাদা পাক। সিগন্যালিং ত্রুটি ও প্রবীণ যাত্রীদের কষ্টকর ওঠানামা নিয়ে তিনি মহাপরিচালককে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
পরে সরাইলের পথে যানজটে আটকে পড়লে এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি মোটরসাইকেলে চড়েন। কিন্তু অবাক হয়ে দেখেন, চালকদের কারও মাথায় হেলমেট নেই। বহু খোঁজাখুঁজির পর একটি হেলমেট পান, সেটি নিজেই পরে রওনা দেন। তিনি বলেন, “চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না।” হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও বিআরটিএকে নির্দেশ দেন।
যানজট প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “সরাইল চৌরাস্তার কাজের পাশাপাশি চালকদের অনিয়ম, হাইওয়ে পুলিশের গাফিলতি এবং ডিভাইডার ভাঙা—এসবই সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে।” তিনি জানান, এ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গেও আলোচনা করবেন।
ফাওজুল কবির আরও বলেন, রাস্তা সংস্কারে ছয় দফা জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ ১২ জন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পদায়ন পেয়েছেন।
ফেরার পথে সাংবাদিকরা তার কাছে সেফ এক্সিট ইস্যু নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি উত্থাপন করেছেন আমার স্নেহভাজন নাহিদ ইসলাম, তাই ব্যক্তিগতভাবে কিছু বলব না। আমি রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করি না।”
শেষে তিনি আবেগভরে লিখেন, “আমি কখনো পদ ব্যবহার করে অন্যায় সুবিধা নেইনি। আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি বা ব্যবসা দিইনি। আমার জীবনের শেষ প্রহরে যদি সেফ এক্সিটের কথা ভাবতে হয়, সেটি হবে আমার জন্য গভীর হতাশার।”
