মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতনের নগ্ন চিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। ভারতীয় আধিপত্যবাদ এ দেশের রাজনীতি ও শিক্ষা অঙ্গনে কত গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে, আবরারের শাহাদাত সেই সত্যকেই আবারও প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ এলাকার ইবনে তাইমিয়া স্কুলের অডিটোরিয়ামে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবির আয়োজিত “ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম” ও “সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা”র পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ এক প্রজন্মকে জাগিয়ে তুলেছিল। শুধু বুয়েট নয়, দেশের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন পেশাজীবী ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো তার হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল। আবরার আমাদের কাছ থেকে চিরবিদায় নিলেও, তার ত্যাগ আমাদের চেতনায় বেঁচে আছে। এই চেতনাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিপীড়ন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনুপ্রাণিত করবে।
ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় তারা হঠাৎ করে ঝটিকা মিছিল করছে। আমরা খবর পেয়েছি, প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র তাদের পিছনে বিপুল অর্থনৈতিক সহায়তা দিচ্ছে এবং প্রশাসনের কিছু অংশকেও নিজেদের মতো ব্যবহার করতে চাইছে—যা দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, যারা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে প্রায় ১৫ শতাধিক শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, তারা এখনো অনুতপ্ত নয়। এসব ঘাতকচক্রকে পুনরায় রাজনীতি ও বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেওয়া যাবে না। আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি আমরা সংহতি জানাই এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সজাগ ও তৎপর রাখতে হবে, যেন তারা আর কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া এখনো সন্তোষজনকভাবে এগোয়নি। বিচার খুব ধীর গতিতে চলছে, যা হতাশাজনক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আমাদের অন্যতম দাবি ছিল—এই গণহত্যার বিচার দ্রুত শেষ করা। আমরা আশা করি, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।