বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক ,
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে সারা দেশে নদ-নদীতে শুরু হয়েছে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে দেশের সবচেয়ে বড় ইলিশের অভয়াশ্রম বরিশাল অঞ্চলে চলছে ব্যাপক অভিযান।
অভিযানের প্রথম দিনেই বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় পরিচালিত ৯৬টি অভিযানে ২২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অংশ নেয়। এ সময় ২২০ টন ইলিশ মাছ ও প্রায় এক হাজার মিটার বিভিন্ন প্রকারের জাল জব্দ করা হয়।
মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কামরুল হাসান জানান, শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে এসব মাছ ও জাল জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় বিভাগের ছয় জেলায় ৬৪টি মৎস্য অবতরণকেন্দ্র, ২১০টি মাছ ঘাট, ৩৯২টি আড়ত এবং ২১৬টি বাজার পরিদর্শন করা হয়। ইলিশ শিকার, বিক্রি ও পরিবহনের সময় মোট ২২০ টন মাছ ও এক হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
অভিযান চলাকালে ৮টি মামলায় মোট ১ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে প্রায় সাড়ে চার লাখ জেলে ইলিশ ধরার সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৪০ হাজার জেলেকে নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ২০০৩-০৪ সাল থেকে জাটকা রক্ষার কর্মসূচি চালু হয়। এরপর থেকেই ইলিশ উৎপাদনে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি ঘটে। ২০০৮ সাল থেকে আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার আগে-পরে ১১ দিন মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, অমাবস্যাতেও ইলিশ ডিম ছাড়ে। সে অনুযায়ী পূর্ণিমা ও অমাবস্যা মিলিয়ে এখন টানা ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।