বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
পরিচয় বড় না, অপরাধ করলে রেহাই নেই কারও!
অনলাইন ডেস্ক
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী হুঁশিয়ার করে বলেছেন, কোনো চাঁদাবাজই ছাড় পাবে না—সে যত বড় নামধারী, প্রভাবশালী কিংবা রাঘববোয়াল হোক না কেন। আইনের গ্রেপ থেকে কেউই মুক্তি পাবে না।
একইসঙ্গে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা গডফাদারদের ধরা থেকে আড়াল করতে সাহায্য করছে, তাদের মধ্যেও দায়ী কিছু সংস্থার ভূমিকা রয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছিল—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ছিল আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক নিয়মিত বৈঠক। কী আলোচনা হয়েছে তা প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলবেন।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে সমন্বয় করে নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এ নিয়ে প্রেস সচিব আগে থেকেই মিডিয়াকে ব্রিফ করেছেন, আপনারা নিশ্চয়ই জেনেছেন।
নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি জানান, আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে ব্যাচ আকারে ট্রেনিং শুরু হবে এবং নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তা চলবে।
এসপি ও ওসিদের বদলি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। বলেন, এটি চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নিয়মিতই বদলি হচ্ছে, হবেও।
তিনি আরও বলেন, আজকের আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল মাদকের ভয়াবহতা। এটি আমাদের সমাজের রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। কক্সবাজারে উচ্চপর্যায়ের টিম পাঠানো হয়েছিল। কিছু সুফল মিলেছে, তবে গডফাদাররা এখনো অধরা।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেন, মাদক জব্দ ও ডিলার ধরার হার বেড়েছে, কিন্তু গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই ব্যর্থতার পেছনে কিছু রাষ্ট্রীয় সংস্থার দায় অস্বীকার করা যাবে না। কারা সহযোগিতা করছে না—তা এখনই খোলাসা করতে চান না বলে জানান তিনি।
চিরুনি অভিযানের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বলেন, গুলশানে চাঁদাবাজ চক্র ধরার ঘটনা বড় অর্জন। মিডিয়াতেও তা ফলাও করে এসেছে। তাই বলে অভিযান থেমে যাবে না।
“সমন্বয়ক” পরিচয়ে কেউ পার পাবে না—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, যতই পরিচিতি থাকুক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধ করলেই শাস্তি পেতেই হবে।