শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
হেপাটাইটিস প্রতিরোধে সম্মিলিত পদক্ষেপই হবে বড় জয়!
অনলাইন ডেস্ক
সুলভ ও মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে রোববার (২৭ জুলাই) দেওয়া এক বাণীতে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এবারের ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এবারের প্রতিপাদ্য—‘হেপাটাইটিস : লেটস ব্রেক ইট ডাউন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ড. ইউনূস জানান, দেশে লিভার রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে, যার মূল কারণ সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়া, অজ্ঞতা এবং সামাজিক কুসংস্কার। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে প্রায় ৪.৪ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস-বি ও ০.৬ শতাংশ হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রতিবছর বহু মানুষ লিভার সিরোসিস, ক্যান্সার ও লিভার ফেইলিওরের মতো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। তবে সচেতনতা ও যথাসময়ে চিকিৎসা গ্রহণে এসব রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সরকার হাসপাতালের পরিকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবারকল্যাণ সেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে অনেক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি খাত এবং জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, নীরব ঘাতক হেপাটাইটিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় হতে হবে। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সব আয়োজনের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তিনি।