শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন
উত্তরার আগুনে ঝলসে গেল সম্ভাবনার পাঁচটি নাম না জানা স্বপ্ন।
অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরা যেন কান্নায় ভেসেছে—মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অঙ্গার হয়ে যাওয়া পাঁচ তরুণ প্রাণের পরিচয় অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এই হৃদয়বিদারক তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
তিনি জানান, উত্তরের বুকে ছাই হয়ে যাওয়া নিখোঁজ ৫ কন্যার পরিচয় মেলেছে ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবের নিখুঁত বিশ্লেষণে। তারা হলেন—ওকিয়া ফেরদৌস নিধি, লামিয়া আক্তার সোনিয়া, আফসানা আক্তার প্রিয়া, রাইসা মনি এবং মারিয়াম উম্মে আফিয়া।
এক হৃদয়ছোঁয়া বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, ২২ জুলাই ভয়াল বিমান দুর্ঘটনার পর সিএমএইচে রাখা দেহাংশ থেকে ১১টি নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটি নারী ডিএনএ প্রোফাইল নির্ণয় করা সম্ভব হয়, যা পরে পাঁচটি পরিবারের ১১ সদস্যের প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে চূড়ান্ত পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
সিআইডি আরও জানায়, নিধির পরিচয় নিশ্চিত হয় তার বাবা-মা ফারুক হোসেন ও সালমা আক্তারের নমুনা বিশ্লেষণে। সোনিয়ার পরিচয় নিশ্চিত হয় বাবুল-মাজেদা দম্পতির সঙ্গে, প্রিয়ার হয় আব্বাস উদ্দিন ও মিনু আক্তারের মাধ্যমে। রাইসার নমুনা মিলে শাহাবুল শেখ ও মিমের সঙ্গে এবং মারিয়ামের হয় আব্দুল কাদির ও উম্মে তামিমা আক্তারের মাধ্যমে।
এদিকে, জাতির শোকের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নেওয়া হয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বৈঠকের শুরুতেই নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রস্তাব ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মোনাজাতে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। নিহত দুই শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যা খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে।
এছাড়া, আগামীকাল শুক্রবার দেশজুড়ে সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। আইএসপিআর জানিয়েছে, এখনো ১৬৫ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। একটি জাতি হারিয়েছে তার সম্ভাবনার প্রদীপ, যেন কান্না থামার নাম নিচ্ছে না।