বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির মূল মাপকাঠি—নেতৃত্ব ও সততার সমন্বয়।
অনলাইন ডেস্ক
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, মন্তব্য করেছেন যে শুধুমাত্র সৎ, নীতিবান, পেশাদার ও নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন অফিসাররাই উচ্চ পদোন্নতির আসল দাবিদার। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে যারা সামরিক জীবনের প্রতিটি ধাপে যোগ্য নেতৃত্ব প্রমাণ করেছেন, তাদেরকেই পদোন্নতির জন্য বেছে নিতে হবে।
রোববার (২০ জুলাই) সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, যিনি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে সাদর অভ্যর্থনা জানান।
১ম পর্বের পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, তেমনি অভ্যন্তরীন শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রেও তাদের অবদান অপরিসীম। বর্তমানে সেনাসদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী এই ত্যাগের জন্য তিনি সেনাপ্রধানসহ সকল সেনাসদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
পদোন্নতি পর্ষদের বক্তব্যের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী ও সেনাবাহিনীর শহীদ ও বীর সেনানীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে আহত ও শহীদ সকল সেনা সদস্যদের স্মরণ করেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত সকল ছাত্র জনতাকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
শেষে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেন, যাতে পদোন্নতির জন্য অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য ও নিযুক্তিগত উপযুক্ততা যথাযথ গুরুত্ব পায়।