বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
ভোট হবে এবার আরও কঠিন, ‘না’ বলার সুযোগ থাকছে!
অনলাইন ডেস্ক
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা ওই নির্বাচনটিকে বিতর্কের কবলে ফেলে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাবে।
ইসি সূত্র জানায়, খসড়ায় নির্ধারণ করা হচ্ছে—কোনো আসনে যদি শুধুমাত্র একজন প্রার্থীই থাকে, তাহলে তার সঙ্গে ‘না’–ভোটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়াও, অনিয়ম পেলে পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা ইসিকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব, একক প্রার্থী সর্বোচ্চ দুইটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিধান, জোট করলে সেই দলমত প্রতীকে ভোট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, ইত্যাদি যুক্ত হচ্ছে খসড়ায়।
৭ জুলাই এই বিষয়ে কমিশন একটি বৈঠকে খসড়া উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, খসড়ার বিভিন্ন প্রস্তাব বিশদে আলোচনা হবে। তারা সেইসব নীতিকে প্রাণবন্ত করার জন্য কাজ করছেন যা আগে সীমাবদ্ধ ছিল।
তবে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সিইসি ড. এ টি এম শামসুল হুদা ‘না’–ভোট চালু করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তী সংসদে এটি পাশ হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল আরও বলেন, “আগে ইসির ছিল পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা, যা হ্রাস পায়। আমরা আবার সেই ক্ষমতা ফিরে পাচ্ছি।” তার মতে, এখন ইসির কেন্দ্রীয় ভোট বাতিলের উপর ঝুঁকি নিয়েছে, পুরো আসন বাতিলের ক্ষমতাও যুক্ত করা হচ্ছে।
নতুন খসড়ায় আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান জুড়েছে—একজন প্রার্থী দুই আসনের বেশি হলে সব মনোনয়ন প্রত্যাহার হবে, সমান পেলে পুনরায় ভোট, মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তে আপিল নিষ্পত্তির চূড়ান্ত পর্যায় ইসিকে অধিকার, নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক বদল বন্ধ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির কোনো পদে থাকলে প্রার্থী হওয়ার জন্য ন্যূনতম স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে; হলফনামায় বিদেশ-দেশে আয়ের উৎস ও সর্বশেষ শিক্ষাগত সার্টিফিকেটের তথ্য দিতে হবে।
ইসি আইন সংস্কার কমিটির প্রধান ও কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আরপিও সংশোধন পর্যালোচনা চলমান, ওকমনের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঐকমত্য হলে মানানসই বিষয়গুলো যুক্ত হবে।”