বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
গুরুতর মানবাধিকার অপরাধ তদন্তে বাংলাদেশে আসছে জাতিসংঘ মিশন!
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) মধ্যে একটি যুগান্তকারী তিন বছরের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার সংরক্ষণ ও বিকাশে সহায়তা প্রদানই হবে মূল লক্ষ্য।
শনিবার (১৯ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় গণমাধ্যম। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করাই এই মানবাধিকার মিশনের মুখ্য উদ্দেশ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করাই এই মিশনের অভীষ্ট। এজন্য দক্ষতা উন্নয়ন, আইনগত সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে মিশন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত সংস্কার প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া, জাতিসংঘের কিছু মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে দেশে কিছু মহল উদ্বিগ্ন—এ কথা স্বীকার করে বলা হয়, বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা শক্তিশালী সাংস্কৃতিক শিকড় ও ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বও এ মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায়, ওএইচসিএইচআরের মিশন কেবলমাত্র গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিরোধ ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দেবে—বিশেষ করে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের ওপর। এই মিশন দেশের আইনি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর বাইরে কোনো ধরনের সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে না।
এমতাবস্থায়, আশা করা হচ্ছে, মিশন স্বচ্ছতা বজায় রেখে, স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে কাজ করবে। জাতিসংঘ বাংলাদেশে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে সম্মান জানিয়ে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সরকার একইসঙ্গে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী মনে হলে সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করে যে কোনো সময় এই চুক্তি থেকে বাংলাদেশ সরে আসতে পারবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যদি পূর্ববর্তী সরকারের সময় এ ধরনের একটি কার্যালয় থাকত, তাহলে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গণহত্যার মতো জঘন্য অপরাধগুলো তদন্ত, দলিলভুক্তকরণ ও বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আনা যেত।
সবশেষে বলা হয়, মানবাধিকারের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কোনো রোমান্টিক ধারণায় নয়, বরং ন্যায়ের ভিত্তিতে। সরকার এই অংশীদারিত্বকে সুযোগ হিসেবে দেখছে, যার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হবে আরও শক্তিশালী, এবং আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় দেশ হবে আরও সক্ষম। এটি পরিচালিত হবে আমাদের মূল্যবোধ, আইন এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই।