মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
মাতারবাড়ী মুক্ত বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত খুলতে যাচ্ছে!
অনলাইন ডেস্ক
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মাতারবাড়ী এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের গতি বাড়াতে বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে উপকূলীয় অঞ্চল দেশের শীর্ষস্থানীয় উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে পরিণত হয়।
মঙ্গলবার (২৭ মে) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ (এমআইডিআই) এর অগ্রগতি পর্যালোচনা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
মাতারবাড়ীর কৌশলগত গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা মাতারবাড়ীকে দেশের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর, পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ এবং জ্বালানি উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এই লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে বিনিয়োগ সহজ করার জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, মহেশখালী-মাতারবাড়ী অঞ্চলের সড়ক ও নৌপরিবহন যোগাযোগ উন্নত করতে সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে এবং সমুদ্রগামী কনটেইনার জাহাজ ধারণক্ষম টার্মিনাল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য পরিকল্পিত শহর নির্মাণ ও নগর উন্নয়নের বিষয়েও প্রধান উপদেষ্টা গুরুত্ব দেন।
তিনি জানান, আগামী ২৮ মে শুরু হতে যাওয়া জাপান সফরে এমআইডিআই উদ্যোগের অগ্রগতি প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। ৩০ মে টোকিওতে অনুষ্ঠিত ৩০তম নিক্কেই ফিউচার অফ এশিয়া সম্মেলনে যোগদান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করবেন।
বৈঠকে জানা যায়, জাপান মহেশখালী-মাতারবাড়ীতে তাদের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে আগ্রহী। এর আগে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানের প্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চলটি সফলভাবে স্থাপিত হয়েছে, যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে।
সৌদি আরবের পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট আরামকো, আবুধাবির বন্দর সংস্থা, সৌদি বন্দর পরিচালনাকারী রেড সি গেটওয়ে, জাপানের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী জেরা এবং মালয়েশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি পেট্রোনাসসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো মাতারবাড়ী অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।
বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য জাপানি পেন্টা-ওশান কনস্ট্রাকশন এবং টোয়া কর্পোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে। জাইকা’র সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি এমআইডিআই উদ্যোগের হৃদয়স্থল হয়ে উঠবে এবং অঞ্চলটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ বাংলাদেশ-জাপানের যৌথ উদ্যোগ হিসেবে সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি ও শিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে অঞ্চলটিকে একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক করিডোরে রূপান্তর করবে।
বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, সড়ক পরিবহন, নৌপরিবহন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। এমআইডিআই সেলের মহাপরিচালক সারওয়ার আলম চলমান প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত অগ্রগতি তুলে ধরেন।